
ডয়চে ভেলে

সারা দেশে চলমান গণহারে মামলা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে মামলা হলেই আর গ্রেপ্তার করা হবে না। আগে তদন্ত হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারপরও গ্রেপ্তার অবশ্য থামেননি।
পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলাম সোমবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলাগুলো পুলিশ সদর দপ্তর মনিটরিং করছে। যারা অপরাধ করেছেন, তাদেরই আইনের আওতায় নেয়া হবে।’
পুলিশ সদর দপ্তর ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে ৫ আগস্টের পর থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সারা দেশে এক হাজার ১৩টি মামলা হয়েছে। তবে ওইসব মামলায় ঠিক কত জন আটক হয়েছেন তার হিসেব নেই তাদের কাছে। যেসব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশই হত্যা মামলা। তবে এর বাইরে কিছু হামলা, ভাঙচুরসহ অন্যান্য অভিযোগের মামলাও রয়েছে।
জানা গেছে, এসব মামলা হয়েছে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, পুলিশহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির লোকজনের বিরুদ্ধে৷ তাদের বিরুদ্ধে মূলত গণহত্যা, হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে৷ এই তালিকায় অভিনেতা, খেলোয়াড়সহ এমন কিছু সেলিব্রেটিও রয়েছেন, যারা গণ আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন অথবা হত্যার প্রতিবাদ না করে নীরব থেকেছেন।
এখন পর্যন্ত মোট মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই ১৭৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে৷ ১৭৭টির মধ্যে ১৫৭টিই হত্যা মামলা৷ এসব মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে৷ মামলা হয়েছে পুলিশের ৩৮৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধেও।
গ্রেপ্তারের তালিকাও ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে৷ সেই তালিকায় সাবেক সরকারের মন্ত্রীসহ কমপক্ষে ৩০ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকের সঙ্গে বিভিন্ন পেশার অনেকের নামই রয়েছে।
এই গণ মামলা ও হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মামলা হওয়ার অর্থ যত্রতত্র গ্রেপ্তার নয়৷ অতি উৎসাহী ও স্বার্থান্বেষী মহল ঢালাওভাবে মামলা গ্রহণে পুলিশের ওপর চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাইনুল হাসান গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, ‘মামলার এজাহারে নাম থাকলেই গ্রেপ্তার করতে হবে বিষয়টা এ রকম না। কালেক্টিভ তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলাম রবিবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘মামলা তো করেছে। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আমরা মামলাগুলো ক্লোজ মনিটরিং করছি। এখানে রাজনৈতিক নেতা, সরকাারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পুলিশ অফিসারসহ যাদের আসামি করা হয়েছে, সবার ব্যাপারেই তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন তো নানা সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়, ভিডিও আছে। আমরা সেভাবে কারা অপরাধে জড়িত, তা নিশ্চিত হচ্ছি। কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়ে। আবার আমাদের লোকজন যাতে কাউকে হয়রানি না করে, সেগুলো আমরা দেখছি। আবার যারা প্রকৃতই অপরাধ করেছে, তারা যাতে রেহাই না পায়, সেটাও আমরা দেখবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ (বিভিন্ন অভিযোগে) মামলা হচ্ছে। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। তাদের মামলাগুলোও মনিটরিং করা হচ্ছে৷ কেউ যদি অপরাধী না হন, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না৷ সাংবাদিকদের যেন প্রফেশনাল কাজের জন্য হয়রানি করা না হয়, সেগুলো আমরা দেখছি।’
তবে মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘আসলে মামলা নেয়ার আগেই পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত করে মামলা নেয়া উচিত৷ পুলিশ এটা চাইলেই করতে পারে৷ তা না হলে এই যে গণহারে হত্যা মামলা হচ্ছে, তা থামানো যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণহত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ অনেক ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে৷ যারা এইসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করতে হবে৷ সেটা না করে এই যে ঢালাও হত্যা মামলা হচ্ছে, তাতে মামলার মেরিট নষ্ট হতে পারে এবং মূল অপরাধীরা আড়ালে চলে যেতে পারে৷ আসামি এমনভাবে দেয়া হচ্ছে, তাতে কথা উঠছে যে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে৷ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা যেমন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হতে দেখেছি।’
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক মনে করেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলা হলেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- তদন্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে৷ এটা গুড সাইন৷ তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা অপরাধী নন, তারা কিন্তু আদালতের মাধ্যমে খালাস পাবেন৷ আর দেশে গণহত্যা, দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ অনেক অপরাধ হয়েছে৷ সেই মামলাগুলো করতে হয়তো একটু সময় দরকার৷ ফলে তারা যাতে পালাতে না পারে, সেইজন্য এই সব মামলার মাধ্যমে একটা ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই এইসব গণহারে মামলার বিরোধী। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহারে হত্যা-মামলার নিন্দা
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। অভিযুক্ত সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে এসব মামলা থেকে দ্রুত তাদের অব্যাহতি দেয়ার আহবানও জানিয়ে দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের এই সংগঠনটি।
শনিবার পরিষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মামলা দেওয়ার প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করছে৷
পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘সাংবাদিকরা কোনো অপরাধ করে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ধারা অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে৷ সম্পাদক পরিষদ আরো জোর দিয়ে বলতে চায় যে, পেশাদারিত্ব বাদ দিয়ে নীতিবিবর্জিত ও লেজুড়বৃত্তির সাংবাদিকতা বর্জনীয়।’

সারা দেশে চলমান গণহারে মামলা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে মামলা হলেই আর গ্রেপ্তার করা হবে না। আগে তদন্ত হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তারপরও গ্রেপ্তার অবশ্য থামেননি।
পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলাম সোমবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলাগুলো পুলিশ সদর দপ্তর মনিটরিং করছে। যারা অপরাধ করেছেন, তাদেরই আইনের আওতায় নেয়া হবে।’
পুলিশ সদর দপ্তর ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে ৫ আগস্টের পর থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সারা দেশে এক হাজার ১৩টি মামলা হয়েছে। তবে ওইসব মামলায় ঠিক কত জন আটক হয়েছেন তার হিসেব নেই তাদের কাছে। যেসব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশই হত্যা মামলা। তবে এর বাইরে কিছু হামলা, ভাঙচুরসহ অন্যান্য অভিযোগের মামলাও রয়েছে।
জানা গেছে, এসব মামলা হয়েছে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, পুলিশহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির লোকজনের বিরুদ্ধে৷ তাদের বিরুদ্ধে মূলত গণহত্যা, হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে৷ এই তালিকায় অভিনেতা, খেলোয়াড়সহ এমন কিছু সেলিব্রেটিও রয়েছেন, যারা গণ আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন অথবা হত্যার প্রতিবাদ না করে নীরব থেকেছেন।
এখন পর্যন্ত মোট মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই ১৭৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে৷ ১৭৭টির মধ্যে ১৫৭টিই হত্যা মামলা৷ এসব মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে৷ মামলা হয়েছে পুলিশের ৩৮৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধেও।
গ্রেপ্তারের তালিকাও ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে৷ সেই তালিকায় সাবেক সরকারের মন্ত্রীসহ কমপক্ষে ৩০ জন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকের সঙ্গে বিভিন্ন পেশার অনেকের নামই রয়েছে।
এই গণ মামলা ও হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মামলা হওয়ার অর্থ যত্রতত্র গ্রেপ্তার নয়৷ অতি উৎসাহী ও স্বার্থান্বেষী মহল ঢালাওভাবে মামলা গ্রহণে পুলিশের ওপর চাপ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাইনুল হাসান গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, ‘মামলার এজাহারে নাম থাকলেই গ্রেপ্তার করতে হবে বিষয়টা এ রকম না। কালেক্টিভ তদন্ত করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
পুলিশের আইজি মো. ময়নুল ইসলাম রবিবার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘মামলা তো করেছে। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আমরা মামলাগুলো ক্লোজ মনিটরিং করছি। এখানে রাজনৈতিক নেতা, সরকাারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পুলিশ অফিসারসহ যাদের আসামি করা হয়েছে, সবার ব্যাপারেই তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন তো নানা সূত্র থেকে তথ্য পাওয়া যায়, ভিডিও আছে। আমরা সেভাবে কারা অপরাধে জড়িত, তা নিশ্চিত হচ্ছি। কেউ যেন হয়রানির মুখে না পড়ে। আবার আমাদের লোকজন যাতে কাউকে হয়রানি না করে, সেগুলো আমরা দেখছি। আবার যারা প্রকৃতই অপরাধ করেছে, তারা যাতে রেহাই না পায়, সেটাও আমরা দেখবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ (বিভিন্ন অভিযোগে) মামলা হচ্ছে। কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। তাদের মামলাগুলোও মনিটরিং করা হচ্ছে৷ কেউ যদি অপরাধী না হন, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে না৷ সাংবাদিকদের যেন প্রফেশনাল কাজের জন্য হয়রানি করা না হয়, সেগুলো আমরা দেখছি।’
তবে মানবাধিকার কর্মী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘আসলে মামলা নেয়ার আগেই পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত করে মামলা নেয়া উচিত৷ পুলিশ এটা চাইলেই করতে পারে৷ তা না হলে এই যে গণহারে হত্যা মামলা হচ্ছে, তা থামানো যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘গণহত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচারসহ অনেক ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটেছে৷ যারা এইসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করতে হবে৷ সেটা না করে এই যে ঢালাও হত্যা মামলা হচ্ছে, তাতে মামলার মেরিট নষ্ট হতে পারে এবং মূল অপরাধীরা আড়ালে চলে যেতে পারে৷ আসামি এমনভাবে দেয়া হচ্ছে, তাতে কথা উঠছে যে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে৷ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমরা যেমন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মামলা হতে দেখেছি।’
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক মনে করেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলা হলেই সবাইকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না- তদন্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে৷ এটা গুড সাইন৷ তবে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা অপরাধী নন, তারা কিন্তু আদালতের মাধ্যমে খালাস পাবেন৷ আর দেশে গণহত্যা, দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ অনেক অপরাধ হয়েছে৷ সেই মামলাগুলো করতে হয়তো একটু সময় দরকার৷ ফলে তারা যাতে পালাতে না পারে, সেইজন্য এই সব মামলার মাধ্যমে একটা ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে আনা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবসময়ই এইসব গণহারে মামলার বিরোধী। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গণহারে হত্যা-মামলার নিন্দা
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে হত্যা মামলা দেওয়ার নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। অভিযুক্ত সাংবাদিকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে এসব মামলা থেকে দ্রুত তাদের অব্যাহতি দেয়ার আহবানও জানিয়ে দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের এই সংগঠনটি।
শনিবার পরিষদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের মামলা দেওয়ার প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করছে৷
পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘সাংবাদিকরা কোনো অপরাধ করে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ ধারা অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে৷ সম্পাদক পরিষদ আরো জোর দিয়ে বলতে চায় যে, পেশাদারিত্ব বাদ দিয়ে নীতিবিবর্জিত ও লেজুড়বৃত্তির সাংবাদিকতা বর্জনীয়।’

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ১৭ বছরে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
২ ঘণ্টা আগে
দেশের ছয় সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসকদের গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩ ঘণ্টা আগে
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের পাঠানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
আসক বিশ্বাস করে, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমেই নাগরিক আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
৪ ঘণ্টা আগে