
প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

নির্ধারিত স্থানের বাইরে অবৈধভাবে মসজিদ নির্মাণ করলে উচ্ছেদ ও নির্মাণে শাস্তির বিধান রেখে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ জারি করেছে সরকার। নীতিমালায় মসজিদ পরিচালনার জন্য প্রতিটি মসজিদে বাধ্যতামূলকভাবে মসজিদ কমিটি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কমিটির গঠন করে দেওয়া বাছাই কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্থা-১ শাখা 'মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫' জারি করেছে। সরকারি মসজিদ ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদকে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, শরিয়াসম্মত স্থানে এবং মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, কেনা অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ দেওয়া স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এ বিধান লঙ্ঘন করে কোনো মসজিদ নির্মাণ করা হলে তা উচ্ছেদ করা যাবে এবং মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
জনগণের স্বেচ্ছায় দেওয়া দান, অনুদান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো উৎসের আর্থিক সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।
মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার জায়গা রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়। বলা হয়েছে, মসজিদ কমিটি শরিয়াসম্মতভাবে নারীদের নামাজের জন্য পৃথক কক্ষ বা স্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
পূর্ণাঙ্গ নীতিমালাটি পড়ুন এখানে—
মসজিদ পরিচালনার জন্য নির্বাচনের মধ্যমে ১৫ সদস্যের একটি মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়। একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন করে সাধারণ সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, মসজিদ পাঠাগার ও দিনি সম্পাদক, শিক্ষা সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠন করতে হবে।
মসজিদের আকার অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির আকারও ছোট-বড় হতে পারে। মসজিদের ইমাম বা খতিব এই কমিটির সদস্য থাকবেন। তবে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনায় তিনি কমিটির সভায় উপস্থিত থাকবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের তালিকাভুক্ত মুসল্লিরা ওই মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের ভোটার হবেন। মুসল্লিদের মধ্য থেকে সর্বসম্মতিক্রমে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন ভোটারদের নিয়ে প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দিলে গোপন ব্যালটে ভোট নিয়ে কমিটি নির্বাচন করতে হবে। মসজিদের তালিকাভুক্ত ভোটারদের নিয়ে প্রতিবছর একটি সাধারণ সভা করতে হবে।
নীতিমালা বলছে, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে যৌক্তিক কারণে এরপর সর্বোচ্চ এক বছর এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নির্বাচন করতে হবে। অনিবার্য কারণে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন করা না গেলে মুসল্লিদের সর্বসম্মতিক্রমে ৫ বা ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্বাচন আয়োজন করবে। নতুন মসজিদের ক্ষেত্রেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পদত্যাগ করলে, বিদ্যমান কমিটি নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন করলে বা কমিটির বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসল্লি অনাস্থা প্রস্তাব আনলে এই কমিটি বিলুপ্ত হবে।
সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত কমিটিও মসজিদ পরিচালনা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা নিজেও সরাসরি মসজিদ পরিচালনা করতে পারবে। ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত মসজিদের ক্ষেত্রে ওয়াকফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ অনুযায়ী ওয়াকফ দলিলের বিধান অনুযায়ীও মসজিদ কমিটি গঠন করা যাবে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা হিসেবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, তাকে নিয়মিত সালাত আদায়কারী ও ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জীবনযাপনকারী হতে হবে। নীতিমালায় কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত সবার দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনার এই নীতিমালায় মসজিদের বিভিন্ন জনবল নিয়োগের বিষয়েও বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো মসজিদে খতিব, সিনিয়র পেশ ইমাম, পেশ ইমাম, ইমাম, প্রধান মুয়াজ্জিন, মুয়াজ্জিন, প্রধান খাদিম, খাদিম, নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা ও নৈশ) ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ পেতে পারেন। মসজিদের আয়তন, মুসল্লির সংখ্যা ও আয় বিবেচনায় জনবল কমবেশি হতে পারে। এসব জনবলের যোগ্যতা নীতিমালার তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদের এসব জনবলের জন্য বেতন কাঠামোও প্রস্তাব করা হয়েছে নীতিমালায়। এ ক্ষেত্রে খতিব নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে চুক্তিভিত্তিক, যেখানে তার বেতন ভাতা চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। অন্য পদগুলোর জন্য বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী। তবে জাতীয় বেতন স্কেল পরিবর্তন হলে নতুন বেতন স্কেল বিবেচনায় নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সিনিয়র পেশ ইমাম এই বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড, পেশ ইমাম ষষ্ঠ গ্রেড, ইমাম নবম গ্রেড, প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড, প্রধান খাদিম ১৫তম গ্রেড, খাদিম ১৬তম গ্রেড এবং নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ২০তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা যাবে।
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মূল বেতনের সমপরিমাণ করে উৎসব ভাতা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব জনবলের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে তাদের বেতনের ৫ শতাংশ কেটে রেখে সমপরিমাণ অর্থ মসজিদ তহবিল থেকে দিয়ে শরিয়াভিত্তিক কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। অবসর বা চাকরি শেষে ওই ব্যক্তিকে এ হিসাব থেকে প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাত সদস্যের বাছাই কমিটির সুপারিশ ছাড়া মসজিদে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে না। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এ বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন, সদস্য সচিব হবেন সাধারণ সম্পাদক বা সহসাধারণ সম্পাদক। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন।
কমিটি মনোনীত জেলা বা উপজেলার প্রসিদ্ধ কোনো মসজিদের একজন খতিব বা পেশ ইমাম ও আলিয়া বা কওমি নেসাবের একজন মুফতি কমিটিতে থাকবেন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে। এ ছাড়া মসজিদ কমিটি মনোনীত কমিটির একজন সদস্য ও নিবন্ধিত ইমাম-খতিব সংগঠনের একজন প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হবেন।
নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদের জনবল নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি আবেদনের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় জাতীয় বা স্থানীয় বাংলা একটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। আগ্রহী প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বা প্রযোজ্য অনুযায়ী শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে। তবে খতিব ও ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে সহিহ কোরআন তেলওয়াত, জুমার আলোচনা, খুতবা পাঠ ও নামাজের ইমামতি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের বাছাই পরীক্ষা নিয়ে মেধাতালিকা প্রস্তুত করে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠাবে। ব্যবস্থাপনা কমিটি তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায় প্রথম জনকে নিয়োগ দেবে। তিনি যোগদান না করলে পরবর্তীজনকে নিয়োগের জন্য বিবেচনায় নেওয়া যাবে। নিয়োগ চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পদের বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ইত্যাদি উল্লেখ করে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সই করা নিয়োগপত্র দিতে হবে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট মসজিদের নামে একটি তহবিল থাকবে এবং মসজিদের সব আয় ওই তহবিলে জমা হবে। এই তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য যেকোনো শরিয়াভিত্তিক তফসিলি ব্যাংকে মসজিদের নামে হিসাব থাকবে, যা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের যেকোনো দুজনের সইয়ে পরিচালিত হবে। মসজিদের যাবতীয় লেনদেন ওই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রতি বছর আর্থিক কার্যক্রম কমিটির সভায় গঠিত নিরীক্ষক দলের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করতে হবে এবং বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে মুসল্লিদের সাধারণ সভায় উপস্থাপন করে অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যদের কমিটি গঠন করতে হবে।
এই নীতিমালা কার্যকর করতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কমিটি তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে পারবেন। জেলা প্রশাসক নিজে আহ্বায়ক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে সদস্য সচিব ও তার মনোনীত সরকার নিবন্ধিত একজন ইমাম বা খতিব সংগঠনের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। ওই কমিটি জটিলতা নিরসন করবে।

নির্ধারিত স্থানের বাইরে অবৈধভাবে মসজিদ নির্মাণ করলে উচ্ছেদ ও নির্মাণে শাস্তির বিধান রেখে ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ জারি করেছে সরকার। নীতিমালায় মসজিদ পরিচালনার জন্য প্রতিটি মসজিদে বাধ্যতামূলকভাবে মসজিদ কমিটি নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কমিটির গঠন করে দেওয়া বাছাই কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংস্থা-১ শাখা 'মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫' জারি করেছে। সরকারি মসজিদ ছাড়া অন্য যেকোনো মসজিদকে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, শরিয়াসম্মত স্থানে এবং মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের নামে ওয়াকফ, দান, কেনা অথবা যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ দেওয়া স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এ বিধান লঙ্ঘন করে কোনো মসজিদ নির্মাণ করা হলে তা উচ্ছেদ করা যাবে এবং মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
জনগণের স্বেচ্ছায় দেওয়া দান, অনুদান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দেশি-বিদেশি সংস্থা বা অন্য কোনো উৎসের আর্থিক সহযোগিতায় মসজিদ নির্মাণ ও পরিচালনা ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।
মসজিদে নারীদের নামাজ পড়ার জায়গা রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নীতিমালায়। বলা হয়েছে, মসজিদ কমিটি শরিয়াসম্মতভাবে নারীদের নামাজের জন্য পৃথক কক্ষ বা স্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।
পূর্ণাঙ্গ নীতিমালাটি পড়ুন এখানে—
মসজিদ পরিচালনার জন্য নির্বাচনের মধ্যমে ১৫ সদস্যের একটি মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে নীতিমালায়। একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন করে সাধারণ সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, অর্থ সম্পাদক, মসজিদ পাঠাগার ও দিনি সম্পাদক, শিক্ষা সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠন করতে হবে।
মসজিদের আকার অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির আকারও ছোট-বড় হতে পারে। মসজিদের ইমাম বা খতিব এই কমিটির সদস্য থাকবেন। তবে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের আলোচনায় তিনি কমিটির সভায় উপস্থিত থাকবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদের তালিকাভুক্ত মুসল্লিরা ওই মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের ভোটার হবেন। মুসল্লিদের মধ্য থেকে সর্বসম্মতিক্রমে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও দুজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। এই কমিশন ভোটারদের নিয়ে প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে মতবিরোধ দেখা দিলে গোপন ব্যালটে ভোট নিয়ে কমিটি নির্বাচন করতে হবে। মসজিদের তালিকাভুক্ত ভোটারদের নিয়ে প্রতিবছর একটি সাধারণ সভা করতে হবে।
নীতিমালা বলছে, মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ হবে তিন বছর। তবে যৌক্তিক কারণে এরপর সর্বোচ্চ এক বছর এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নির্বাচন করতে হবে। অনিবার্য কারণে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচন করা না গেলে মুসল্লিদের সর্বসম্মতিক্রমে ৫ বা ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি ৬০ দিনের মধ্যে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের নির্বাচন আয়োজন করবে। নতুন মসজিদের ক্ষেত্রেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে, কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পদত্যাগ করলে, বিদ্যমান কমিটি নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন করলে বা কমিটির বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসল্লি অনাস্থা প্রস্তাব আনলে এই কমিটি বিলুপ্ত হবে।
সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত মসজিদের ক্ষেত্রে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত কমিটিও মসজিদ পরিচালনা করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা নিজেও সরাসরি মসজিদ পরিচালনা করতে পারবে। ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত মসজিদের ক্ষেত্রে ওয়াকফ অধ্যাদেশ ১৯৬২ অনুযায়ী ওয়াকফ দলিলের বিধান অনুযায়ীও মসজিদ কমিটি গঠন করা যাবে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের যোগ্যতা হিসেবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, তাকে নিয়মিত সালাত আদায়কারী ও ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী জীবনযাপনকারী হতে হবে। নীতিমালায় কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে সদস্য পর্যন্ত সবার দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনার এই নীতিমালায় মসজিদের বিভিন্ন জনবল নিয়োগের বিষয়েও বিস্তারিত বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো মসজিদে খতিব, সিনিয়র পেশ ইমাম, পেশ ইমাম, ইমাম, প্রধান মুয়াজ্জিন, মুয়াজ্জিন, প্রধান খাদিম, খাদিম, নিরাপত্তা প্রহরী (দিবা ও নৈশ) ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ পেতে পারেন। মসজিদের আয়তন, মুসল্লির সংখ্যা ও আয় বিবেচনায় জনবল কমবেশি হতে পারে। এসব জনবলের যোগ্যতা নীতিমালার তফসিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদের এসব জনবলের জন্য বেতন কাঠামোও প্রস্তাব করা হয়েছে নীতিমালায়। এ ক্ষেত্রে খতিব নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে চুক্তিভিত্তিক, যেখানে তার বেতন ভাতা চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। অন্য পদগুলোর জন্য বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী। তবে জাতীয় বেতন স্কেল পরিবর্তন হলে নতুন বেতন স্কেল বিবেচনায় নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সিনিয়র পেশ ইমাম এই বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড, পেশ ইমাম ষষ্ঠ গ্রেড, ইমাম নবম গ্রেড, প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন ১১তম গ্রেড, প্রধান খাদিম ১৫তম গ্রেড, খাদিম ১৬তম গ্রেড এবং নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী ২০তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা যাবে।
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মূল বেতনের সমপরিমাণ করে উৎসব ভাতা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব জনবলের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে তাদের বেতনের ৫ শতাংশ কেটে রেখে সমপরিমাণ অর্থ মসজিদ তহবিল থেকে দিয়ে শরিয়াভিত্তিক কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে হবে। অবসর বা চাকরি শেষে ওই ব্যক্তিকে এ হিসাব থেকে প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাত সদস্যের বাছাই কমিটির সুপারিশ ছাড়া মসজিদে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে না। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এ বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন, সদস্য সচিব হবেন সাধারণ সম্পাদক বা সহসাধারণ সম্পাদক। কমিটিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি সদস্য থাকবেন।
কমিটি মনোনীত জেলা বা উপজেলার প্রসিদ্ধ কোনো মসজিদের একজন খতিব বা পেশ ইমাম ও আলিয়া বা কওমি নেসাবের একজন মুফতি কমিটিতে থাকবেন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে। এ ছাড়া মসজিদ কমিটি মনোনীত কমিটির একজন সদস্য ও নিবন্ধিত ইমাম-খতিব সংগঠনের একজন প্রতিনিধি কমিটির সদস্য হবেন।
নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, মসজিদের জনবল নিয়োগের জন্য বাছাই কমিটি আবেদনের জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় জাতীয় বা স্থানীয় বাংলা একটি পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। আগ্রহী প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বা প্রযোজ্য অনুযায়ী শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে। তবে খতিব ও ইমাম নিয়োগের ক্ষেত্রে সহিহ কোরআন তেলওয়াত, জুমার আলোচনা, খুতবা পাঠ ও নামাজের ইমামতি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি সংশ্লিষ্ট পদের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তিদের বাছাই পরীক্ষা নিয়ে মেধাতালিকা প্রস্তুত করে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠাবে। ব্যবস্থাপনা কমিটি তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায় প্রথম জনকে নিয়োগ দেবে। তিনি যোগদান না করলে পরবর্তীজনকে নিয়োগের জন্য বিবেচনায় নেওয়া যাবে। নিয়োগ চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পদের বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ইত্যাদি উল্লেখ করে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের সই করা নিয়োগপত্র দিতে হবে।
মসজিদ ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট মসজিদের নামে একটি তহবিল থাকবে এবং মসজিদের সব আয় ওই তহবিলে জমা হবে। এই তহবিল ব্যবস্থাপনার জন্য যেকোনো শরিয়াভিত্তিক তফসিলি ব্যাংকে মসজিদের নামে হিসাব থাকবে, যা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদকের যেকোনো দুজনের সইয়ে পরিচালিত হবে। মসজিদের যাবতীয় লেনদেন ওই ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
প্রতি বছর আর্থিক কার্যক্রম কমিটির সভায় গঠিত নিরীক্ষক দলের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা করতে হবে এবং বার্ষিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করে মুসল্লিদের সাধারণ সভায় উপস্থাপন করে অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যদের কমিটি গঠন করতে হবে।
এই নীতিমালা কার্যকর করতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কমিটি তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে পারবেন। জেলা প্রশাসক নিজে আহ্বায়ক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালককে সদস্য সচিব ও তার মনোনীত সরকার নিবন্ধিত একজন ইমাম বা খতিব সংগঠনের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবেন। ওই কমিটি জটিলতা নিরসন করবে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
৬ ঘণ্টা আগে
এ ছাড়া মহিবুল হকের নামে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলা ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ০৬টি দলিল মূলে ১.৭২ একর জমি, মহিবুল হকের মেয়ে মোশরেকা মৌমিতা হকের নামে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় ০.১২৪৩ একর জমি ও মহিবুল হকের স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা বেগম নামে ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস এলাকায় ২৭০০ স্কয়ার ফিট আয়তনের
৭ ঘণ্টা আগে
সরকারি তিতুমীর কলেজে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
৭ ঘণ্টা আগে