তাজরীনে আগুনে শতাধিক প্রাণহানির বিচার হয়নি ১৩ বছরেও

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ০৪
১৩ বছর আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আগুন লাগে তাজরীন ফ্যাশনসে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক কারখানা তাজরীন ফ্যাশনসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১২ জন শ্রমিক। এরপর পেরিয়ে গেছে ১৩ বছর। কিন্তু শ্রমিকদের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি।

আলোচিত এ ঘটনার মামলার বিচারকাজ চলছে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নাসরিন জাহানের আদালতে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে আছে। তবে কবে নাগাদ মামলাটির বিচারকাজ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ।

আদালত সূত্র বলছে, গত বছর ওই পোশাক কারখানার ফিনিশিং সুপারভাইজার আমিনুর রহমানের পর আর সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহে ১৮ নভেম্বরও মামলার সাক্ষ্য নেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। কোনো সাক্ষী না আসায় আদালত পরের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী বছরের ৯ মার্চ।

এ মামলার বিচার না হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনায় শ্রমিকদের স্বজনরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় ওই ঘটনায় যথাযথ ক্ষতিপূরণও তারা পাচ্ছেন না।

তোবা গ্রুপের মালিকানাধীন ওই কারখানায় আগুন লাগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর। আশুলিয়ায় নিশ্চিন্তপুরে অবস্থিত সে কারখানার আগুন ছিল স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ।

বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরও ছয় তলা ওই কারখানার বিভিন্ন তলায় দরজা বন্ধ রাখা হয়েছিল, শ্রমিকদের বের হতে দেওয়া হয়নি। ওই সময় কারখানায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অগ্নিকাণ্ডে আহত ও দগ্ধ হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক।

এদিকে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৫৩টি পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের অজ্ঞাত মরদেহ হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাকি মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২৫ নভেম্বর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম একই থানায় নাশকতা ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের ভার পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মাসখানেক পর ২২ ২২ ডিসেম্বর তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ও চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারকে প্রধান আসামি করে পুলিশ অভিযোগপত্র দেয়। সেখানে হত্যা ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় আসামিদের।

মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, লোডার শামীম মিয়া ও প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর পলাতক।

মামলার আরও সাত আসামি জামিনে মুক্ত আছেন। তারা হলেন— কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক ও কোয়ালিটি ম্যানেজার শহীদুজ্জামান দুলাল। তারা সবাই জামিনে আছেন।

এ মামলার বিচারকাজ থমকে রয়েছে মূলত সাক্ষ্য গ্রহণে ধীরগতির কারণে। মামলার অভিযোগপত্রে মোট ১০৪ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছিল। ২০১৫ সালে আদালত সাক্ষ্য নিতে শুরু করার পর গত ১০ বছরে মাত্র ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবু সেলিম চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। মামলার নথিপত্র নতুন করে গুছিয়ে নিয়ে শুরু করতে গিয়ে নানা নথিপত্র না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ করতে পারছেন না।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় সম্পাদক পরিষদের নিন্দা

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পাদক পরিষদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। একই সঙ্গে পরিষদ স্পষ্টভাবে বলতে চায়— কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও ন্যায়বিচারসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযোগ ছাড়াই ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া, সেখানে আটকে রাখা, কিংবা

১৪ ঘণ্টা আগে

ভারত থেকে সন্ত্রাস চালালে বরদাশত করব না : মাহফুজ আলম

দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াই দেশের ভেতরেই মোকাবিলা করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করেছিলাম, আমরা এই দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে এই দেশের ভেতরে মোকাবিলা করব। আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে, যদি এই দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে এই দেশের মুক্তির লড়াইও এই দেশের বাইরে

১৪ ঘণ্টা আগে

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি উপহাস: টিআইবি

এতে আরও বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে অবর্ণনীয় আত্মত্যাগের বিনিময়ে সামগ্রিক পুলিশ ব্যবস্থা সংস্কারের যে অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, এই অধ্যাদেশ তার সঙ্গে রীতিমতো বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এ অধ্যাদেশ অনুসারে পুলিশ কমিশন গঠিত হলে তা স্বাধীন ও উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হওয়া দূরে থাক, বাস্তবে তা হবে সরকারের আজ্ঞাব

১৬ ঘণ্টা আগে

‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ও প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিতে নীতিমালা জারি

নীতিমালায় বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের অনুকূলে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগের লক্ষ্যে সরকার এই নীতিমালা প্রণয়ন ও জারি করেছে।

১৬ ঘণ্টা আগে