বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক: অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১৮: ৩৫
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাগুরার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ওএসডি রয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজমত হোসাইন।

এর আগে গত ২০ মে এক নারী ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দিয়ে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে শুনানির সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাগুরার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে নিজের সাবেক স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করার আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাগুরার সরকারি বাংলোয় ওই নারীকে নাকফুল পরিয়ে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতা প্রকাশ করেন জহিরুল ইসলাম। এরপর একই বছরের ৮ মার্চ ওই নারী অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে তিনি নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ওই সময় এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মাগুরার সরকারি বাংলো, অফিসের রেস্টরুম এবং ঢাকায় ওই নারীর বাসায় একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ঢাকা পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হওয়ার পরও স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ওই নারীকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যান।

মামলায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে জহিরুল ইসলাম বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ওই নারী গত বছরের ১৩ জুলাই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর ১৫ জুলাই ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার জজ আদালতের সামনে জহিরুল ইসলাম আবারও বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement