বিপজ্জনক ৮ বিদেশী ক্রিম, ৭টিই পাকিস্তানি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৫১
বিএসটিআইর পরীক্ষায় বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হওয়া বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পাকিস্তানের সাতটি ও চীনের একটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে বাংলাদেশে অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় বহু গুণ বেশি ক্ষতিকর মার্কারি (পারদ) পাওয়া গেছে। এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ ও মজুত না রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে জনসাধারণকে এসব ক্রিম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিএসটিআই বলছে, বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ দশমিক ০০ (এক) পিপিএম। কিন্তু পরীক্ষায় আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে এর বহু গুণ বেশি মার্কারি পাওয়া গেছে।

সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি দেশের বাজারে বিভিন্ন বিদেশি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের বিক্রি বেড়েছে। এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি করা হচ্ছে না। লাগেজ বা বিভিন্ন চোরাই পথে দেশে এনে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে এসব পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে না বিএসটিআই। এ অবস্থায় বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসটিআই পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালানো হলে আটটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হয়।

বিএসটিআইর পরীক্ষায় পাকিস্তানের এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি হোয়াটেনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯ পিপিএম, পাকিস্তানের কিউসিআই কোম্পানির নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২ পিপিএম, পাকিস্তানের লোয়া ইন্টারন্যাশনালের নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯ দশমিক ৮২ পিপিএম এবং নাভিয়া হোয়াটেনিং ক্রিমে ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াটেনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬ পিপিএম, পাকিস্তানের ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭ পিপিএম, পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কো. লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্ক্রিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। ভোক্তার জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের বাজার নিরাপদ রাখতে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট এবং সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি ভোক্তাদের অজ্ঞাত বা অনুমোদনহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম কেনা ও ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। প্রসাধনী কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই এবং সন্দেহজনক কোনো পণ্য সম্পর্কে তথ্য থাকলে বিএসটিআইকে জানাতে অনুরোধ করেন।

বিএসটিআই জানিয়েছে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, স্থায়ী দাগ, অ্যালার্জি, কিডনির ক্ষতি, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা এবং গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আগেও নিষিদ্ধ হয়েছিল একই ধরনের ক্রিম

এ ধরনের ক্ষতিকর ফর্সাকারী ক্রিমের বিরুদ্ধে এর আগেও ব্যবস্থা নিয়েছিল বিএসটিআই। ২০২০ সালের ২ মার্চ পাকিস্তানে উৎপাদিত আট ধরনের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মার্কারিসহ ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়ায় সেগুলোর আমদানি, খোলা বাজারে বিক্রি ও অনলাইনে বিপণন নিষিদ্ধ করে সংস্থাটি।

সে সময় খোলা বাজার ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সংগ্রহ করা ১৩টি ব্র্যান্ডের ক্রিম বিএসটিআইর পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ব্র্যান্ডের ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি এবং দুটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে মার্কারির পাশাপাশি হাইড্রোকুইনোনও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ১ পিপিএম এবং হাইড্রোকুইনোনের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৫ পিপিএম হলেও পরীক্ষায় এসব পণ্যে তার বহু গুণ বেশি মাত্রা পাওয়া গিয়েছিল।

তখন বিএসটিআইর পরীক্ষায় পাকিস্তানের গৌরি কসমেটিকসের গৌরি, এস.জে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনি, কিউসি ইন্টারন্যাশনালের নিউ ফেস, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ, গোল্ডেন পার্ল কসমেটিকসের গোল্ডেন পার্ল, পুনিয়া ব্রাদার্সের ফাইজা, নূর গোল্ড কসমেটিকসের নুর এবং হোয়াইট পার্ল কসমেটিকসের হোয়াইট পার্ল প্লাস ব্র্যান্ডের ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় মার্কারি ও হাইড্রোকুইনোন শনাক্ত হয়েছিল।

সে সময়ও বিএসটিআই জানিয়েছিল, এসব ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি সংগ্রহ করা পণ্যগুলোর মোড়কে কোনো বৈধ আমদানিকারকের তথ্য না থাকায় সেগুলো বৈধ নাকি চোরাই পথে দেশে এসেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২০ সালে নিষিদ্ধ হওয়া গৌরি, চাঁদনি, নিউ ফেস, ডিউ ও নুরসহ কয়েকটি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ক্রিমে এবারও বিপজ্জনক মাত্রার মার্কারি শনাক্ত হয়েছে। ফলে একই ধরনের পণ্য আবারও দেশের বাজারে পাওয়া যাওয়ায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে বিএসটিআই।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

জবিতে সেমিনার ঘিরে ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিত জকসুর সংঘর্ষ

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন ও পরে শহীদ মিনার এলাকায় দুই দফায় ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়।

৩ ঘণ্টা আগে

২ তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— রাহুল (২৩), মো. ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)।

৪ ঘণ্টা আগে

কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং বন্ধে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

নোটিশে বলা হয়, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। অভিযোগ করা হয়, কক্সবাজারে কোনো প্রকার মানসম্মত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত অপারেটর বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছ

৪ ঘণ্টা আগে

এক বছরের মধ্যেই জুলাই হত্যা মামলার বিচার শেষ হবে: চিফ প্রসিকিউটর

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "আইন অনুযায়ীই বর্তমানে পলাতক আসামিদের বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে পলাতকদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করার সুযোগ নেই। এ ছাড়া আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও জরিমানাসংক্রান্ত নির্দেশনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হচ্ছে।"

৪ ঘণ্টা আগে