
বিবিসি

ভারতে রপ্তানি না করার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে ইলিশে দাম কমার তথ্য দেখে সম্প্রতি বাজারে গিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশেরই জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যটির উচ্চমূল্য নিয়ে হতাশাও জানাচ্ছেন অনেকে।
ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে বাস্তবের মাছের বাজার সবখানেই ইলিশের দাম নিয়ে কৌতূহল চোখে পড়ার মত। ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিক্রেতাদেরও।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, ভারতে ইলিশ না পাঠানো ব্যাপারে সরকারের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমরা ভারতে কোনো ইলিশ পাঠাতে পারব না। এটি দামি মাছ। আমরা দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পারে না। কারণ সব ভারতে পাঠানো হয়।’
তবে রপ্তানি না হওয়ার পরেও বাজারে মাছটির দাম নাগালের মধ্যে নেই বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। ‘রপ্তানি বন্ধ কিন্তু দাম তো কমে নাই, মাঝখান থেকে আমরা বাজারে এসে নাজেহাল হই,’ ঢাকার হাতিরপুল বাজারে মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী নার্গিস বেগম বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন।
‘ফেসবুক-ইউটিউব দেখে আসে, বলে ইলিশের দাম কম, আপনারা বেশি চান কেন? আমাদের ব্যবসা নষ্ট...’, পাল্টা বলছিলেন বিক্রেতা মো. কামাল। এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে, মৎস্য উপদেষ্টার ভাষায় ‘দামী মাছটি’র দাম কমছে না। যার অন্যতম, যোগানের ঘাটতি।
কোন পর্যায়ে কেমন দাম?
জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ তিন থেকে পাঁচ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এসব জায়গায় দামের তারতম্যের ওপর বাজারও ওঠানামা করে।
চাঁদপুরের আড়তগুলোতে মঙ্গলবার সকালে তিন থেকে চারশো গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকার আশেপাশে।
অন্য মাছের মত ইলিশের ক্ষেত্রেও ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। অর্থাৎ, মাছের আকার যত বড় হয়, কেজিপ্রতি দামও তত বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া, সমুদ্র-মোহনা থেকে ধরা মাছ আর নদীর উজানের মাছের ক্ষেত্রেও দামে বেশ কিছুটা পার্থক্য থাকে বলেও জানান মাছ বিক্রেতারা।
প্রায় এক কেজি ওজনের মাছের কেজিপ্রতি দাম উৎসে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা। অর্থাৎ, জেলেরা প্রতি কেজি মাছের জন্য এই দাম পেয়ে থাকেন বলে জানান, ভোলার মেঘনা নদীর জেলে মো: ইব্রাহীম মাঝি।
আড়তে ওই আকৃতির মাছের দাম ওঠে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। যা আরো দুই-তিনশো টাকা বেশি দামে কিনতে হয় ভোক্তাকে। ‘আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক কেজি ওজনের মাছের মণ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ হাজার টাকা,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নয়শো গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের মাছের জন্য ১৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। আবদুল বারী জমাদার জানান, কিছুদিন ধরে এই দামের মধ্যেই ইলিশের বেচাকেনা হচ্ছে।
‘গত এক মাসে মণপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার হেরফের হয়েছে। কেজিতে হয়তো দাম ৫০-১০০ টাকা বাড়ে কমে,’ যোগ করেন তিনি। জমাদার আরো জানান, এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।
যেসব কারণে দাম কমে না
দেশের ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের মাছ ধরা বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর মে-জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম।
এই সময়টাকে 'পিক টাইম' বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার বলছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এই সময়টায় মাছের দেখা মিলছে 'খুবই কম'।
‘২০২২ সালে প্রতিদিন ১২০০ মণ ইলিশ আসতো আমাদের মোকামগুলোয়, গত বছর আসে সাত-আটশো মণ আর এইবার আসতেছে দুই-আড়াইশো মণ,’ বলেন মি. জমাদার। এ বছর ৪০ টি ট্রলারে দাদন (অগ্রিম অর্থ) দিয়েছেন জানিয়ে এখন পর্যন্ত একটি ট্রলার যথেষ্ট মাছ পায়নি বলে দাবি করেন তিনি। জানান, একেকটি ট্রলারে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে দিয়েছেন।
এই দাদনদাতাদের মাধ্যমেই জেলেদের মাছ বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকে। এতে কমিশন এজেন্ট হিসেবে তারা দশ শতাংশ অর্থ পান। পর্যাপ্ত যোগান না থাকলে দাম হ্রাসের সুযোগ থাকে না এমনটাই জানাচ্ছেন অন্য ব্যবসায়ীরাও।

ভারতে রপ্তানি না করার সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে ইলিশে দাম কমার তথ্য দেখে সম্প্রতি বাজারে গিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশেরই জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যটির উচ্চমূল্য নিয়ে হতাশাও জানাচ্ছেন অনেকে।
ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে বাস্তবের মাছের বাজার সবখানেই ইলিশের দাম নিয়ে কৌতূহল চোখে পড়ার মত। ক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিক্রেতাদেরও।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, ভারতে ইলিশ না পাঠানো ব্যাপারে সরকারের অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমরা ভারতে কোনো ইলিশ পাঠাতে পারব না। এটি দামি মাছ। আমরা দেখেছি, আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পারে না। কারণ সব ভারতে পাঠানো হয়।’
তবে রপ্তানি না হওয়ার পরেও বাজারে মাছটির দাম নাগালের মধ্যে নেই বলে জানাচ্ছেন ক্রেতারা। ‘রপ্তানি বন্ধ কিন্তু দাম তো কমে নাই, মাঝখান থেকে আমরা বাজারে এসে নাজেহাল হই,’ ঢাকার হাতিরপুল বাজারে মাছ কিনতে আসা চাকরিজীবী নার্গিস বেগম বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন।
‘ফেসবুক-ইউটিউব দেখে আসে, বলে ইলিশের দাম কম, আপনারা বেশি চান কেন? আমাদের ব্যবসা নষ্ট...’, পাল্টা বলছিলেন বিক্রেতা মো. কামাল। এই ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে, মৎস্য উপদেষ্টার ভাষায় ‘দামী মাছটি’র দাম কমছে না। যার অন্যতম, যোগানের ঘাটতি।
কোন পর্যায়ে কেমন দাম?
জেলের জালে ধরা পড়া ইলিশ তিন থেকে পাঁচ হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে আসে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এসব জায়গায় দামের তারতম্যের ওপর বাজারও ওঠানামা করে।
চাঁদপুরের আড়তগুলোতে মঙ্গলবার সকালে তিন থেকে চারশো গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকার আশেপাশে।
অন্য মাছের মত ইলিশের ক্ষেত্রেও ওজনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। অর্থাৎ, মাছের আকার যত বড় হয়, কেজিপ্রতি দামও তত বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া, সমুদ্র-মোহনা থেকে ধরা মাছ আর নদীর উজানের মাছের ক্ষেত্রেও দামে বেশ কিছুটা পার্থক্য থাকে বলেও জানান মাছ বিক্রেতারা।
প্রায় এক কেজি ওজনের মাছের কেজিপ্রতি দাম উৎসে এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা। অর্থাৎ, জেলেরা প্রতি কেজি মাছের জন্য এই দাম পেয়ে থাকেন বলে জানান, ভোলার মেঘনা নদীর জেলে মো: ইব্রাহীম মাঝি।
আড়তে ওই আকৃতির মাছের দাম ওঠে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। যা আরো দুই-তিনশো টাকা বেশি দামে কিনতে হয় ভোক্তাকে। ‘আজ (মঙ্গলবার) সকালে এক কেজি ওজনের মাছের মণ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬২ হাজার টাকা,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, নয়শো গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের মাছের জন্য ১৮০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। আবদুল বারী জমাদার জানান, কিছুদিন ধরে এই দামের মধ্যেই ইলিশের বেচাকেনা হচ্ছে।
‘গত এক মাসে মণপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার হেরফের হয়েছে। কেজিতে হয়তো দাম ৫০-১০০ টাকা বাড়ে কমে,’ যোগ করেন তিনি। জমাদার আরো জানান, এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায়।
যেসব কারণে দাম কমে না
দেশের ইলিশ রক্ষায় সরকার প্রতি বছর পহেলা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের মাছ ধরা বন্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপর মে-জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইলিশ আহরণের মৌসুম।
এই সময়টাকে 'পিক টাইম' বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার বলছেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এই সময়টায় মাছের দেখা মিলছে 'খুবই কম'।
‘২০২২ সালে প্রতিদিন ১২০০ মণ ইলিশ আসতো আমাদের মোকামগুলোয়, গত বছর আসে সাত-আটশো মণ আর এইবার আসতেছে দুই-আড়াইশো মণ,’ বলেন মি. জমাদার। এ বছর ৪০ টি ট্রলারে দাদন (অগ্রিম অর্থ) দিয়েছেন জানিয়ে এখন পর্যন্ত একটি ট্রলার যথেষ্ট মাছ পায়নি বলে দাবি করেন তিনি। জানান, একেকটি ট্রলারে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা করে দিয়েছেন।
এই দাদনদাতাদের মাধ্যমেই জেলেদের মাছ বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকে। এতে কমিশন এজেন্ট হিসেবে তারা দশ শতাংশ অর্থ পান। পর্যাপ্ত যোগান না থাকলে দাম হ্রাসের সুযোগ থাকে না এমনটাই জানাচ্ছেন অন্য ব্যবসায়ীরাও।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, "ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
১ ঘণ্টা আগে
বলা হয়েছে, ওই বিধিমালার অধীন বিনা অনুমতিতে কাজে অনুপস্থিতি; বিনা অনুমতিতে অফিস ত্যাগ; ও দেরি করে অফিসে উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
১৩ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন প্রশাসন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত পরিবর্তন হয়েছে, তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন কীভাবে তার পদে টিকে থাকলেন সেটি অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়।
১৫ ঘণ্টা আগে
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে তিন সচিবকে নিজ নিজ দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
১৫ ঘণ্টা আগে