দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৩: ৪৩

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে কেবল আফগানিস্তান।

টিআইয়ের ২০২৪ সালের দুর্নীতির ধারণা সূচকে (সিপিআই) বাংলাদেশের স্কোর ২৩। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। বাংলাদেশের এই স্কোর গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর ২৪ স্কোর নিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে দশম এবং তালিকার উচ্চক্রমে ১৪৯ নম্বর অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় ধানমন্ডির কার্যালয়ে সিপিআই-২০২৪ প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. মো ইফেতারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে দক্ষিণ সুদান, যাদের সিপিআই স্কোর ৮। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোমালিয়ার স্কোর ৯, তৃতীয় স্থানে থাকা ভেনিজুয়েলার স্কোর ১০। অন্যদিকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক, যাদের সিপিআই স্কোর ৯০। সিপিআই স্কোর ৮৮ ও ৮৪ নিয়ে দুর্নীতিসুক্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় যথাক্রমে ফিনল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ বছর স্কোর বিবেচনায় উচ্চক্রম (ভালো থেকে খারাপ) অনুযায়ী দুই ধাপ অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম এবং নিম্নক্রম (খারাপ থেকে ভালো) অনুযায়ী ১৪তম। একই স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন ১৭ স্কোর ও অবস্থান আফগানিস্তানের। এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান সর্বনিম্ন।

এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ছিল ২৪, ২০২২ সালে ছিল ২৫। ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বাংলাদেশের সিপিআই স্কোর ২৬-এ স্থির ছিল। গত ২২ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৮ সিপিআই স্কোর ছিল ২০১৭ সালে। ২০১৩ সালে ছিল ২৭। নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চ চারবার ১৩তম, তিনবার ১৪তম, দুইবার ১২তম এবং একবার করে ১৫, ১৬ ও ১৭তম। অর্থাৎ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম থেকে ১৭তম স্থানের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর ও অবস্থান প্রমাণ করে, গত ১৩ বছর কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে। এমনকি দুর্নীতি সংঘটনে সহায়তা ও অংশগ্রহণও করেছে।

তিনি বলেন, এগুলোর প্রভাবে যথেচ্ছ লুটপাট, দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তোষণ, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা এবং সার্বিক কাঠামোগত দুর্বলতায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রম অবনতি হয়েছে। অথচ দুর্নীতিবিরোধী বাগাড়ম্বর ব্যতীত এ নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের কোনো বিকার বা চিন্তা দেখা যায়নি। এমনকি দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৯৫ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করে থাকে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম তালিকাভুক্ত হয় এই সূচকে। তখন এ তালিকায় মোট ৯১টি দেশ ঠাঁই পায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে সাফারি পার্কে প্রবেশ করেন। পরে তিনি পার্ক ঘুরে দেখেন এবং গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ তার সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ ঘণ্টা আগে

নাঈমকে মারধরের ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস সিএমপি কমিশনারের

এর আগে, শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় নাঈমকে বহনকারী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

১৬ ঘণ্টা আগে

হাই-ভোল্টেজ ট্র্যাকে বিড়াল ঢুকে পড়ায় মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ

সাধারণত কারিগরি ত্রুটি বা সিগন্যাল সমস্যার কারণে ট্রেন থামার নজির থাকলেও, একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পুরো নেটওয়ার্ক থমকে যাওয়ার ঘটনাটি বেশ চমকপ্রদ। তবে কোন স্টেশনের ঠিক কোন পয়েন্টে বিড়ালটি ঢুকেছে, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

১৮ ঘণ্টা আগে

মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ প্রাণহানি, আহত ১৬৫২

সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৬৭৬ টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত, ২১৯ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ ও আহতের ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ।

১৮ ঘণ্টা আগে