অবৈধ সম্পদ : এস কে সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২৬ জুন

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৬ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। এদিন দুদক প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ কারণে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন নতুন এ দিন ধার্য করেন।

২০২১ সালের ১০ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন। মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে নিজের ভাই ও আত্মীয়ের নামে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে, তা স্থানান্তর ও হস্থান্তরের অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে উত্তরা আবাসিক এলাকায় নিজের নামে একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে, ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামেও রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান।

এরপর প্রভাব খাঁটিয়ে তিন কাঠার প্লটটি পাঁচ কাঠায় উন্নীত করান। একপর্যায়ে পূর্বাচলের প্লটটিকে উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কে (বাড়ি নম্বর ১/এ) স্থানান্তর করিয়ে রাজউকের অনুমোদন করান। বরাদ্দ পাওয়ার পর এস কে সিনহা প্লটটির ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ নিয়োগ করেন তারই আত্মীয় শঙ্খজিৎ সিংহকে।

অনুসন্ধানে দুদক প্রমাণ পায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই উত্তরার ওই প্লটের অনুকূলে রাজউকে ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে তার তত্ত্বাবধানেই ওই প্লটে নয়তলা ভবন নির্মাণ হয়। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে এ নির্মাণব্যয় প্রাক্কলন করে দুদক।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের প্লটের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়াও ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। সব মিলিয়ে এ বাবদ ৭ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে জনৈক খালেদা চৌধুরীর কাছ থেকে ভবনের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ টাকা বাদে অবশিষ্ট ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং আত্মীয় শঙ্খজিৎ সিংহের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে স্থায়ী ও নগদে ৭৮ লাখ টাকা জমা পাওয়া গেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের অভিযোগ, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন- যা তিনি ভাই ও আত্মীয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্থান্তর করেন। এ সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো উৎস নেই এবং তা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

এ অপরাধে সংস্থাটির ২০০৪-এর ২৭ (১) ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২-এর ৪ (২) ও (৩) ধারায় মামলা করে দুদক।

এদিকে ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের আরেকটি মামলায় পৃথক ধারায় ঢাকার একটি আদালতে এস কে সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড হয়।

ad
ad

খবরাখবর থেকে আরও পড়ুন

পদত্যাগের আবেদন করলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন করেছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এ আবেদন করেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩ ঘণ্টা আগে

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার বিদায়ী ভাষণ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস শেষ কর্মদিবসে আজ সোমবার তার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন। এরপর তাদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেনে তিনি। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

৪ ঘণ্টা আগে

ট্রান্সকমের সিইও সিমিন রহমান ও তার মাকে মামলা থেকে অব্যাহতি

ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০ শেয়ার আত্মসাতের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান এবং তার মা ট্রান্সকম গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমানসহ ছয়জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

৫ ঘণ্টা আগে

মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৩৭টি বাসা প্রস্তুত, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা

অন্তর্বর্তী সরকার কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় ধারণা করা হয়েছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

৬ ঘণ্টা আগে