
অরুণ কুমার

১৯৪৯ সাল। সাম্রাজ্যবাদীদের হঠিয়ে চীনের মসনদে সমাজতান্ত্রিকেরা। মাও সে তুং তাদের মধ্যমণি। ক্ষমতাই এসেই চিনকে অর্থনৈতিকভাবে আমূলে বদলে দিতে মাও ঘোষণা করলেন তার দ্য গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড প্রকল্প। কৃষিতে উন্নয়নই ছিল এই মহাপরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য। মাও জানেন, প্রতিটা মানুষের মুখে যদি ভাত তুলে দেওয়া যায়, অর্থনৈতিক অগ্রতির গ্রাফটা ওপরের দিকে উঠবে তর তর করে। আর এজন্য প্রথমেই জানা দরকার প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি ফসল ক্ষতি করে কারা?
কৃষিবিজ্ঞানীদের স্মরণ করলেন মাও সে তুং। শুঁয়োপোকা, ইঁদুর কিংবা ছত্রাককে দায়ী করলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু কৃষিবিজ্ঞানীরা যা জানালেন, তা শুনে চোখ কপালে মাওয়ের। ইঁদুর নয়, শুঁয়োপোকা নয়, আমাদের বসতবাড়িতে বাস করা নিরীহগোছের চড়ুই পাখিগুলোই নাকি যত নষ্টের মূল! বছরে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের খাবার সাবাড় করে চড়ুইয়ের দল। খবর শুনে তো মাওয়ের মেজাজ সপ্তমে! সকল রাগ গিয়ে পড়ে নচ্ছার চড়ুইদের ওপর।
পরিবেশবিদদের মত না নিয়ে, জীববিজ্ঞানীদের মতামতের তোয়াক্কা না করে, হাল্লা রাজার মতো হাঁক ছেড়ে ঘোষণা করলেন যুদ্ধ! হাল্লা রাজা শেষমেষ নিরীহ সুন্ডি রাজ্য আক্রমণে সফল হননি গুপি-বাঘা বাধ সেধেছিল বলে। কিন্তু মাও ঘোষণা করলেন দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পিং। এজন্য একটা দিন বেছে নিলেন মাও। ঘোষণা দিলেন ওইদিন প্রত্যেক চীনা নাগরিককে নামতে হবে রাস্তায়। মারতে হবে অন্তত একটি করে চড়ুই।
এ ধরনের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের উৎসাহে ঘাটতি ছিল না। কেউ গুলতি নিয়ে, কেউ বন্দুক দিয়ে, কেউ স্রেফ ঢিল মেরেই চড়ুই নিধনযজ্ঞে নিজের বাহাদুরি দেখায়। শুধু বড় পাখি, বাস, ডিম, ছানা; যেখানে যা পাওয়া গেল, ধ্বংস করল উৎসাহী জনতা। মাত্র একটা দিনেই সেদিন ঠিক কতটা চড়ুই মারা পড়ল জানা যায়নি সঠিক সংখ্যাটা। কিন্তু আনুমানিক হিসাব প্রায় ৬০ কোটি!
এক দিনেই এতবড় যুদ্ধ জয়ে নিশ্চয়ই মাও সেতুং তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলেন। গুপি-বাঘার মতো কেউ তো তাকে নিরস্ত করতে আসেনি! তৃপ্তির ঢেকুর তুললে জয়ের জাবর কাটার সুযোগ মেলেনি। পৃথিবীর কোনো প্রাণীই ফেল না নয়। অনেক সময় দেখা বাস্তুতন্ত্রে কিংবা খাদ্য শৃঙ্খলে বড় ভূমিকা রাখে আপত দৃষ্টিতে গুরুত্বহীন কিংবা ক্ষতিকর প্রাণীরাও। চীনের চড়ুই নিধন কর্মসূচিই তাই ব্যুমেরাং হয়ে আঘাত করেছিল চিনের কৃষিতে।
৬০ কোটি সংখ্যাটা কম নয়। চড়ুই শস্যভোজী হলেও ছানা চড়ুই শস্যদানা খেতে পারে না। শুঁয়োপোকাই তাদের একমাত্র খাবার। আবার মা চড়ুই যখন ডিমে তা দেয়, তখন বাবা চড়ুই তাকে শুঁয়ো পোকা ধরে এনে খাওয়ায়।
৬০ কোটি চড়ুই মানে ৩০ কোটি জোড়া। প্রতিটা জোড়া যদি বছরে এক জোড়া করে ছানার জন্ম দেয়, তাহলে ৬০ কোটি নতুন চড়ুইয়ের জন্ম হয়। তারা যদি প্রতিদিন গড়ে দুটি করে শুঁয়োপোকা খায়, দিনে ১২০ কোটি পোকা খতম! ছানা বড় হতে কমবেশি ২০ দিন লাগে। তারপর এরা শস্য খেতে শেখে। ২০ দিনে ৬০ কোটি চড়ুইছানা প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি শুয়োপোকা সাবাড় করে। কিন্তু চড়ুই নিধনের পর এই শুঁয়োপোকাগুলো বেঁচে যায়। এই পোকাগুলো ২০ দিন ধরে ফসল তছরুপ করে, তারপর সাবালোক হয়, মথ, প্রজাপতি বা ফড়িংয়ের রূপ নিয়ে। কিছুদিন পর সেই আড়াই হাজার কোটি পোকা আবার ডিম দেয়, শুঁয়োপোকার জন্ম হয়, প্রতি জোড়া গড়ে ১০টা করে নতুন পোকার জন্ম দিলে সংখ্যাটা কত হয় হিসাব না করাই ভালো। হিসাবটা মাও সে তুং যদি করতেন তাহলে ভালো হতো চীনাদের জন্য।
এরপর কয়েক সিজন ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে পোকার সংখ্যা, ফসলের ক্ষতিও বাড়ে চক্রবৃদ্ধি হারে। ফল হাতেনাতে। কয়েক বছরের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় চীনের ফসল উৎপাদন। ফলে শিগগির দুর্ভিক্ষের কবলে মাও সে তুংয়ের নয়াচীন। তার জের টানতে হয় কয়েক বছর। মারা পড়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ স্রেফ মাও সে তুংয়ের দুর্মতির কারণে।

১৯৪৯ সাল। সাম্রাজ্যবাদীদের হঠিয়ে চীনের মসনদে সমাজতান্ত্রিকেরা। মাও সে তুং তাদের মধ্যমণি। ক্ষমতাই এসেই চিনকে অর্থনৈতিকভাবে আমূলে বদলে দিতে মাও ঘোষণা করলেন তার দ্য গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড প্রকল্প। কৃষিতে উন্নয়নই ছিল এই মহাপরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য। মাও জানেন, প্রতিটা মানুষের মুখে যদি ভাত তুলে দেওয়া যায়, অর্থনৈতিক অগ্রতির গ্রাফটা ওপরের দিকে উঠবে তর তর করে। আর এজন্য প্রথমেই জানা দরকার প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি ফসল ক্ষতি করে কারা?
কৃষিবিজ্ঞানীদের স্মরণ করলেন মাও সে তুং। শুঁয়োপোকা, ইঁদুর কিংবা ছত্রাককে দায়ী করলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কিন্তু কৃষিবিজ্ঞানীরা যা জানালেন, তা শুনে চোখ কপালে মাওয়ের। ইঁদুর নয়, শুঁয়োপোকা নয়, আমাদের বসতবাড়িতে বাস করা নিরীহগোছের চড়ুই পাখিগুলোই নাকি যত নষ্টের মূল! বছরে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের খাবার সাবাড় করে চড়ুইয়ের দল। খবর শুনে তো মাওয়ের মেজাজ সপ্তমে! সকল রাগ গিয়ে পড়ে নচ্ছার চড়ুইদের ওপর।
পরিবেশবিদদের মত না নিয়ে, জীববিজ্ঞানীদের মতামতের তোয়াক্কা না করে, হাল্লা রাজার মতো হাঁক ছেড়ে ঘোষণা করলেন যুদ্ধ! হাল্লা রাজা শেষমেষ নিরীহ সুন্ডি রাজ্য আক্রমণে সফল হননি গুপি-বাঘা বাধ সেধেছিল বলে। কিন্তু মাও ঘোষণা করলেন দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পিং। এজন্য একটা দিন বেছে নিলেন মাও। ঘোষণা দিলেন ওইদিন প্রত্যেক চীনা নাগরিককে নামতে হবে রাস্তায়। মারতে হবে অন্তত একটি করে চড়ুই।
এ ধরনের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের উৎসাহে ঘাটতি ছিল না। কেউ গুলতি নিয়ে, কেউ বন্দুক দিয়ে, কেউ স্রেফ ঢিল মেরেই চড়ুই নিধনযজ্ঞে নিজের বাহাদুরি দেখায়। শুধু বড় পাখি, বাস, ডিম, ছানা; যেখানে যা পাওয়া গেল, ধ্বংস করল উৎসাহী জনতা। মাত্র একটা দিনেই সেদিন ঠিক কতটা চড়ুই মারা পড়ল জানা যায়নি সঠিক সংখ্যাটা। কিন্তু আনুমানিক হিসাব প্রায় ৬০ কোটি!
এক দিনেই এতবড় যুদ্ধ জয়ে নিশ্চয়ই মাও সেতুং তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছিলেন। গুপি-বাঘার মতো কেউ তো তাকে নিরস্ত করতে আসেনি! তৃপ্তির ঢেকুর তুললে জয়ের জাবর কাটার সুযোগ মেলেনি। পৃথিবীর কোনো প্রাণীই ফেল না নয়। অনেক সময় দেখা বাস্তুতন্ত্রে কিংবা খাদ্য শৃঙ্খলে বড় ভূমিকা রাখে আপত দৃষ্টিতে গুরুত্বহীন কিংবা ক্ষতিকর প্রাণীরাও। চীনের চড়ুই নিধন কর্মসূচিই তাই ব্যুমেরাং হয়ে আঘাত করেছিল চিনের কৃষিতে।
৬০ কোটি সংখ্যাটা কম নয়। চড়ুই শস্যভোজী হলেও ছানা চড়ুই শস্যদানা খেতে পারে না। শুঁয়োপোকাই তাদের একমাত্র খাবার। আবার মা চড়ুই যখন ডিমে তা দেয়, তখন বাবা চড়ুই তাকে শুঁয়ো পোকা ধরে এনে খাওয়ায়।
৬০ কোটি চড়ুই মানে ৩০ কোটি জোড়া। প্রতিটা জোড়া যদি বছরে এক জোড়া করে ছানার জন্ম দেয়, তাহলে ৬০ কোটি নতুন চড়ুইয়ের জন্ম হয়। তারা যদি প্রতিদিন গড়ে দুটি করে শুঁয়োপোকা খায়, দিনে ১২০ কোটি পোকা খতম! ছানা বড় হতে কমবেশি ২০ দিন লাগে। তারপর এরা শস্য খেতে শেখে। ২০ দিনে ৬০ কোটি চড়ুইছানা প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি শুয়োপোকা সাবাড় করে। কিন্তু চড়ুই নিধনের পর এই শুঁয়োপোকাগুলো বেঁচে যায়। এই পোকাগুলো ২০ দিন ধরে ফসল তছরুপ করে, তারপর সাবালোক হয়, মথ, প্রজাপতি বা ফড়িংয়ের রূপ নিয়ে। কিছুদিন পর সেই আড়াই হাজার কোটি পোকা আবার ডিম দেয়, শুঁয়োপোকার জন্ম হয়, প্রতি জোড়া গড়ে ১০টা করে নতুন পোকার জন্ম দিলে সংখ্যাটা কত হয় হিসাব না করাই ভালো। হিসাবটা মাও সে তুং যদি করতেন তাহলে ভালো হতো চীনাদের জন্য।
এরপর কয়েক সিজন ধরে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে পোকার সংখ্যা, ফসলের ক্ষতিও বাড়ে চক্রবৃদ্ধি হারে। ফল হাতেনাতে। কয়েক বছরের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় চীনের ফসল উৎপাদন। ফলে শিগগির দুর্ভিক্ষের কবলে মাও সে তুংয়ের নয়াচীন। তার জের টানতে হয় কয়েক বছর। মারা পড়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ স্রেফ মাও সে তুংয়ের দুর্মতির কারণে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত
১৫ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের মধ্যে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ ঘণ্টা আগে
প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্ষুদ্র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগে
এর ফলে উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আগের মতো ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের এ খরচ পেয়ে থাকেন। তাদের জন্যও এ খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েও তা থেক
১৯ ঘণ্টা আগে