
রাজশাহী ব্যুরো

পদ্মার পাড়ে শীত মানেই একটু আলাদা রকমের অনুভূতি। কিন্তু এবারের শীত যেন সেই চেনা অনুভূতিকেও ছাপিয়ে গেছে। কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা রাজশাহী নগরী কয়েক দিন ধরেই সূর্যের মুখ দেখছে না। ভোর থেকে দুপুর— সময় গড়ালেও শীতের দাপট কমছে না। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে জনজীবন। সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। পাশাপাশি শীতল বাতাস আর কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, আজ মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজশাহীর তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চলতি শীত মৌসুমে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এক দিনের ব্যবধানে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের। তবে সবচেয়ে কষ্ট পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের রাজশাহী শহর এখন চেনা শহর নয়। সড়কে মানুষের চলাচল কম। যারা বের হচ্ছেন, তারা সবাই যেন তাড়াহুড়ো করে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। মোটা কাপড়েও শরীর কাঁপছে। কুয়াশার কারণে সামনে দেখা যায় না ঠিকঠাক।
দিনমজুর আব্দুর রহিম আলী প্রতিদিন ভোরে বের হন কাজের সন্ধানে। কিন্তু এই কুয়াশা আর ঠান্ডায় তার পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন। তিনি বলেন, কাজ থাকলেও শরীর মানে না। হাত-পা জমে যায়। তার মতো অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের কাছে শীত মানেই অনিশ্চয়তা। কাজ হবে কি হবে না— এই দুশ্চিন্তা।
চারঘাট উপজেলা থেকে নগরীর বিনোদপুর বাজারে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর সাইফুল ইসলাম বলেন, গায়ে দুই-তিনটা গরম কাপড় পরেও শরীর ঠান্ডায় কাঁপে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে?

একই অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সায়েম আলীর। তিনি জানান, শীতের কারণে রাস্তায় মানুষ কমে গেছে। যাত্রী নেই বললেই চলে। আয় কমছে, অথচ ঠান্ডায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর।
নিম্ন আয়ের মানুষদের কষ্টটা আরও প্রকট। যাদের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার, তাদের জন্য এই শীত যেন বাড়তি বোঝা। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই অনেকেরই। কেউ পুরোনো কম্বল, কেউ ছেঁড়া জ্যাকেট, আবার কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত কাটানোর চেষ্টা করছেন। রাতে ঠান্ডা বাড়লে সেই আগুনের পাশে বসেই চোখে ঘুম আসে।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছে ছিন্নমূল মানুষ। ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড— এসব জায়গায় রাত কাটানো মানুষগুলোর জন্য এই ঠান্ডা যেন মৃত্যুঝুঁকি। গাদাগাদি করে একসঙ্গে শুয়ে শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছেন তারা। তবু ঠান্ডা মানছে না।
শুধু মানুষ নয়, শীতের কষ্ট ছুঁয়ে গেছে পশু-পাখিদের জীবনেও। ভোরে মাঠে গরু-ছাগলের আনাগোনা কমে গেছে। পাখিরা গাছের ডালে ডালে গা জড়ো করে বসে আছে। প্রকৃতির সব প্রাণী যেন একসঙ্গে শীতের সঙ্গে লড়াই করছে।

গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। দিনের বেলা আলো থাকলেও রোদের উষ্ণতা নেই। এতে কৃষকরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ও শীতকালীন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষেতের ওপর জমে থাকা শিশির আর কুয়াশা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনেই তা কমে এসেছে ৭ ডিগ্রিতে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। ফলে কুয়াশা ছিল ঘন, দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।
রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই শীত অব্যাহত থাকতে পারে।
শীতের প্রভাবে সড়কেও বেড়েছে ভোগান্তি। কুয়াশায় ঢেকে থাকা সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চালকরা ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে সকালবেলা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে যানজট।
শীতার্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চললেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো অপর্যাপ্ত। রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার কম্বলের প্রয়োজন। এর মধ্যে সাড়ে ৩২ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। আরও কম্বল কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

পদ্মার পাড়ে শীত মানেই একটু আলাদা রকমের অনুভূতি। কিন্তু এবারের শীত যেন সেই চেনা অনুভূতিকেও ছাপিয়ে গেছে। কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা রাজশাহী নগরী কয়েক দিন ধরেই সূর্যের মুখ দেখছে না। ভোর থেকে দুপুর— সময় গড়ালেও শীতের দাপট কমছে না। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে জনজীবন। সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। পাশাপাশি শীতল বাতাস আর কুয়াশার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, আজ মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজশাহীর তাপমাত্রা নেমে আসে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। চলতি শীত মৌসুমে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এক দিনের ব্যবধানে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে রাজশাহীর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে ভোরের কুয়াশা ও হিমেল বাতাস উপেক্ষা করে কাজে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের। তবে সবচেয়ে কষ্ট পোহাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের রাজশাহী শহর এখন চেনা শহর নয়। সড়কে মানুষের চলাচল কম। যারা বের হচ্ছেন, তারা সবাই যেন তাড়াহুড়ো করে গন্তব্যে পৌঁছাতে চান। মোটা কাপড়েও শরীর কাঁপছে। কুয়াশার কারণে সামনে দেখা যায় না ঠিকঠাক।
দিনমজুর আব্দুর রহিম আলী প্রতিদিন ভোরে বের হন কাজের সন্ধানে। কিন্তু এই কুয়াশা আর ঠান্ডায় তার পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাই কঠিন। তিনি বলেন, কাজ থাকলেও শরীর মানে না। হাত-পা জমে যায়। তার মতো অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষের কাছে শীত মানেই অনিশ্চয়তা। কাজ হবে কি হবে না— এই দুশ্চিন্তা।
চারঘাট উপজেলা থেকে নগরীর বিনোদপুর বাজারে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুর সাইফুল ইসলাম বলেন, গায়ে দুই-তিনটা গরম কাপড় পরেও শরীর ঠান্ডায় কাঁপে। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে?

একই অভিযোগ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সায়েম আলীর। তিনি জানান, শীতের কারণে রাস্তায় মানুষ কমে গেছে। যাত্রী নেই বললেই চলে। আয় কমছে, অথচ ঠান্ডায় গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর।
নিম্ন আয়ের মানুষদের কষ্টটা আরও প্রকট। যাদের দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার, তাদের জন্য এই শীত যেন বাড়তি বোঝা। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্য নেই অনেকেরই। কেউ পুরোনো কম্বল, কেউ ছেঁড়া জ্যাকেট, আবার কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত কাটানোর চেষ্টা করছেন। রাতে ঠান্ডা বাড়লে সেই আগুনের পাশে বসেই চোখে ঘুম আসে।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছে ছিন্নমূল মানুষ। ফুটপাত, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড— এসব জায়গায় রাত কাটানো মানুষগুলোর জন্য এই ঠান্ডা যেন মৃত্যুঝুঁকি। গাদাগাদি করে একসঙ্গে শুয়ে শরীরের উষ্ণতা ভাগাভাগি করার চেষ্টা করছেন তারা। তবু ঠান্ডা মানছে না।
শুধু মানুষ নয়, শীতের কষ্ট ছুঁয়ে গেছে পশু-পাখিদের জীবনেও। ভোরে মাঠে গরু-ছাগলের আনাগোনা কমে গেছে। পাখিরা গাছের ডালে ডালে গা জড়ো করে বসে আছে। প্রকৃতির সব প্রাণী যেন একসঙ্গে শীতের সঙ্গে লড়াই করছে।

গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহীতে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে। দিনের বেলা আলো থাকলেও রোদের উষ্ণতা নেই। এতে কৃষকরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ও শীতকালীন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষেতের ওপর জমে থাকা শিশির আর কুয়াশা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দিনেই তা কমে এসেছে ৭ ডিগ্রিতে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল শতভাগ। ফলে কুয়াশা ছিল ঘন, দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৬০০ মিটারে।
রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই শীত অব্যাহত থাকতে পারে।
শীতের প্রভাবে সড়কেও বেড়েছে ভোগান্তি। কুয়াশায় ঢেকে থাকা সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় চালকরা ধীরগতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন। এতে সকালবেলা গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে যানজট।
শীতার্তদের সহায়তায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চললেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো অপর্যাপ্ত। রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, জেলায় প্রায় ৫৫ হাজার কম্বলের প্রয়োজন। এর মধ্যে সাড়ে ৩২ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। আরও কম্বল কেনার প্রক্রিয়া চলছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নতুন করে পানি বৃদ্ধির শঙ্কা নেই। আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে পানি বিপদসীমার আরও নিচে নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১ দিন আগে
সোমবার (২১ জুলাই) ১৬১ নম্বর রাজগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, গাছটি একতলা পুরোনো ভবনের ছাদের ওপর ঝুঁকে আছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলো প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে।
২ দিন আগে
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল বেলায় হাসিনা বেগম লোহার মই বেয়ে ছাদে উঠছিল। মইটি আগে থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিল। ফলে বেয়ে উঠার সময় হাসিনা বিদ্যুৎস্পষ্ট হন। এই সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ভাতিজি আশা খাতুন ও আশার মেয়ে মিম আক্তার মারা যান। পরে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
২ দিন আগে
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ আলোচনা-সমালোচনার মুখে স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সুবিধাজনক স্থানে নতুন করে ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
৩ দিন আগে