কলকাতায় অগ্নিদগ্ধ সাজুর মরদেহ এলো দেশে, ভারতে সৎকার রেবতীকে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ১৫
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ শনিবার দুপুরে দেশে পৌঁছেছে। ভোমরা স্থলবন্দরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি দেশে পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন। অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকেই সাজুর স্বজনরা ভোমরা স্থলবন্দরে মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সাজুর ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান দিপুসহ কয়েকজন স্বজন অপেক্ষা করছেন। এ সময় জানা যায়, কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কপথে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন এলাকায় পৌঁছেছে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বলেন, ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তর করতে কিছুটা সময় নিয়েছে। তারা দুপুর ১২টার দিকে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। এরপর ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানান, নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠাতে উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের একজন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। তার পরিবার গতকাল শুক্রবার ভারতে তার সৎকার করেছে বলে জানান ওমর ফারুক আকন্দ। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী, সেখানেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের তথ্য উপহাইকমিশনের কাছে নেই।

গত বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে ৯ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী সরকার ছাড়াও কুষ্টিয়ার চারজন এবং ঢাকার একজন রয়েছেন। বাকি ৫ জনের মরদেহ আজ যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে।

সাজুর মরদেহ গ্রহণ করতে ভোমরা স্থলবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই দিপু, ফুফাতো ভাই উজ্জ্বল, মিথুনসহ স্বজনেরা। বড় ভাই সাহেব সরদার ভোমরায় যাননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারকি করছেন।

এদিকে রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার বলেন, তিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে করে কলকাতায় পৌঁছান। তখন তার মায়ের মরদেহ কলকাতার মর্গে ছিল। পরে তার বাবাও কলকাতায় পৌঁছান।

রেবতী সরকারের সঙ্গে ভারতে গিয়েছিলেন তার দুই সন্তান তৃষা সরকার ও অনীক সরকার। উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার বেড়াতে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের রাতে তারা হোটেলে ছিলেন না। খবর পেয়ে হরিদ্বার থেকে ফিরে তারা মায়ের মরদেহ বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

অনিক সরকার বলেন, পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে ৩টার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তার মায়ের সৎকার সম্পন্ন হয়।

বন্ধ ১১ হোটেল, ১৭টিকে শোকজ

কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ফরেনসিক দল পুলিশকে জানিয়েছে, শিখা ইন হোটেলে একটি প্লাগ পয়েন্ট থেকে একাধিক রেফ্রিজারেটর চালানো হচ্ছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ছিল না ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমনপথও।

এমনকি ওই হোটেলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো অডিটও হয়নি। একই ভবনে আরও কয়েকটি হোটেল ছিল। শুধু ওই ভবন নয়, নিউমার্কেট এলাকাতেও একই ধরনের ভবনে একাধিক আবাসিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছে, যেগুলোর অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থারও কোনো বালাই নেই।

অগ্নিকাণ্ডের পর শুক্রবার ওই হোটেলটি যেখানে অবস্থিত, সেই নিউমার্কেট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে কলকাতা পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস। অভিযানে ১১টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানে সহায়তা করতে পুলিশও সঙ্গে ছিল। অভিযানে ২৩ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের সাতটি ও ২৫ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের তিনটি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস আরও ১৭টি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, যার জবাব দিতে সময় দেওয়া হয়েছে ২৪ ঘণ্টা। জবাব সন্তোষজনক না হলে এসব হোটেলও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

মেঘনার ওপর ১৭৮ কোটি টাকার সেতুর কাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

হাওর অঞ্চলে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার কারণে সারা বছর সহজ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন। সেতুটি নির্মিত হলে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

১৩ ঘণ্টা আগে

অষ্টগ্রামে মাছ কেনা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদমপুর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী শিব্বির আহমেদ ও একই গ্রামের বাছির মিয়ার মধ্যে মাছ কেনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন বাজারে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

১ দিন আগে

স্কুলের বাথরুমে হাত-পা-মুখ বাঁধা ছাত্রী উদ্ধার, শরীরে ব্লেডের জখম

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় স্কুল ছুটি হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাথরুম থেকে শব্দ শুনতে পেয়ে নির্মাণ শ্রমিকেরা সেখানে যান। পরে তারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেন।

১ দিন আগে

নারায়ণগঞ্জে যুব আন্দোলন নেতা হত্যা: মহাসড়ক অবরোধের ২ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

বৃহস্পতিবার রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ খুন হন। ৩৫ বছর বয়সী বুলবুল পাশের শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে। যে এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।

১ দিন আগে