ভোটের বাজি জিতে মহিষ পেলেন বিএনপি সমর্থক

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুর-২ আসনে জামায়াত সমর্থকের সঙ্গে বাজি ধরে মহিষ জিতেছেন বিএনপি সমর্থক। বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান (বাঁয়ের ইনসেটে) ও জামায়াত সমর্থক আমীর হোসেন (ডানের ইনসেটে)। ছবি: রাজনীতি ডটকম

শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের নির্বাচনি ফলাফলকে ঘিরে নালিতাবাড়ী উপজেলার ১২ নম্বর কলসপাড় ইউনিয়নের উত্তর নাকশী গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। নির্বাচনের আগে জামায়াত প্রার্থীর এক সমর্থকের সঙ্গে ব্যতিক্রমী বাজি ধরে একটি মহিষ জিতেছেন এক বিএনপি সমর্থক। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে মহিষটি বুঝে নেন উত্তর নাকশীর শিমুলগড়া এলাকার বাসিন্দা ও বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর সমর্থক আব্দুল মান্নান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে উত্তর নাকশী গ্রামের মৃত মহুর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মান্নান এবং বালুঘাটা গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে আমীর হোসেনের মধ্যে এ ব্যতিক্রমী বাজি ধরা হয়। শর্ত ছিল— দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হলে আব্দুল মান্নান দেবেন পাঁচটি মহিষ। আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হলে আমীর হোসেন দেবেন একটি মহিষ।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, শেরপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৫ ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর পূর্বনির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকালে আমীর হোসেন তার পালের সবচেয়ে বড় মহিষটি আব্দুল মান্নানের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাজিতে জেতা মহিষটি বুঝে নিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান। ছবি: রাজনীতি ডটকম
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাজিতে জেতা মহিষটি বুঝে নিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আব্দুল মান্নান। ছবি: রাজনীতি ডটকম

মহিষটি নিয়ে বিজয় মিছিলের আদলে গ্রামে প্রবেশ করলে উত্তর নাকশীজুড়ে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশু থেকে বয়স্ক— সব বয়সী মানুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন।

জানা গেছে, বাজিতে অংশ নেওয়া আব্দুল মান্নান ও আমীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কৃষিকাজ করেন এবং মহিষ পালন করেন। বাজিতে হেরে আমীর হোসেন তার চারটি মহিষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহিষটি হস্তান্তর করেছেন।

বাজিতে জয়ের বিষয়ে আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে শহিদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। দলকে ভালোবেসেই বাজি ধরেছিলাম। হেরে গেলে আমার পালের পাঁচটি মহিষ দিয়ে দিতাম। আমি নিশ্চিত ছিলাম ধানের শীষই জিতবে।’

অন্যদিকে বাজি হেরে আমীর হোসেন বলেন, ‘আমি জামায়াত ইসলামীকে ভালোবাসি। আমাদের দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কাউকে কথা দিলে কথা রাখতে হবে। সেই জন্য আমি আমার পালের বড় মহিষটা দিয়ে দিয়েছি।’

বালুঘাটা গ্রামের বাসিন্দা বারেক বলেন, ‘মান্নান ভাই ও আমীর হোসেন দুজনেই সহজ-সরল মানুষ। নির্বাচনের আগে মাঠে মহিষ চরানোর সময় তারা বাজি ধরেন। ফল প্রকাশের পর আমীর হোসেন তার বড় মহিষটি গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে মান্নান ভাইকে দিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।’

কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিদ বলেন, ‘মান্নান ও আমীর হোসেনের মধ্যে পারিবারিক সখ্যতা রয়েছে। বাজির শর্ত অনুযায়ী মহিষ হস্তান্তর হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে মিছিলও হয়েছে। তবে পরে মহিষটি ফেরত দেওয়া হতে পারে বলেও শুনেছি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।’

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

স্পর্শকাতর অঙ্গে চেপে ধরার কাণ্ড: গ্রেপ্তার ২, লিটু দলের কেউ নন দাবি যুবদলের

প্রধান অভিযুক্ত লিটুকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করা হলেও বরিশাল যুবদল এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্ত লিটুর সঙ্গে যুবদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি দলের কোনো পদেও ছিলেন না।

১ দিন আগে

ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ জনের মৃত্যু

সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার জামতলী, কুতুপালং এবং বালুখালী ক্যাম্পে এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

১ দিন আগে

কারওয়ান বাজার থেকে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী মহরম

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় র‌্যাব জানায়, মহরম দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।

২ দিন আগে

ফেনীর ফুলগাজীতে শতবর্ষী মন্দির ভাঙার প্রতিবাদ করায় হামলার অভিযোগ, আহত ৫

মন্দিরের দেখভাল করা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সঞ্জিব বণিককে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ছাড়া বণিক পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে সঞ্জিব বণিক, অপূর্ব বণিক, রত্না বণিক, শিল্পী চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন আহত হন।

২ দিন আগে