ফকিরহাটে ডাকাতিতে ব্যর্থ, পালানোর সময় ডাকাত দলের ককটেলে আহত ২

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২০
ডাকাতির চেষ্টার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ডাকাতির চেষ্টার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ফকিরহাটে মাছ ব্যবসায়ী মাহবুব মল্লিকের বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে ছয়জনের একটি দল। পালিয়ে যাওয়ার সময় পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মাহবুব ও তার বোন রেহানা আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতশৈয়া গ্রামের মাহবুব মল্লিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণে আহতদের স্থানীয় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পরিবারের বরাত দিয়ে ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার শনিবার দুপুরে বলেন, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ছয়জনের একটি ডাকাত দল মাছ ব্যবসায়ী মাহবুব মল্লিকের বাড়ির লোহার ক্লপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

ঘরে ঢুকেই ডাকাত দলের সদস্যরা মাহবুবের বোন রেহানাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ বেঁধে ফেলে। পরে অন্য ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মাহবুবকে ডেকে তুলে চিৎকার না করে সব নগদ টাকা ও মালামাল তাদের হাতে তুলে দিতে হুমকি দেওয়া হয়।

মাহবুব বাড়িতে মূল্যবান কিছু নেই জানালে ডাকাত দলের সদস্যরা সঙ্গে থাকা লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে। এ সময় মাহবুবের বোন রেহানা কৌশলে মুখের বাঁধন খুলে ডাকচিৎকার শুরু করেন। পরে ডাকাত দল ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

রেহানার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘুম থেকে উঠে ডাকাত দলকে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় সামনে আসা মাহবুবের চাচাতো ভাই শাহজাহান মল্লিকের স্ত্রীকে ধাক্কা দেয় ডাকাত দলের সদস্যরা। একপর্যায়ে ডাকাত দলের এক সদস্য শাহজাহানের স্ত্রীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইনের এক অংশ ছিঁড়ে নেয়।

এরপর ডাকাত দল পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। ডাকাত দলের হামলায় বাড়ির মালিক মাহবুব ও তার বোন রেহানা আহত হয়েছেন। তাদের শরীরে ফোলা ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ফুটেজে দেখা গেছে, অপরাধীর সংখ্যা ছয়জন। তাদের কাছে পিস্তল, রামদা ও লোহার রড ছিল।

এলাকা নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তার।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিতুর রহমান শনিবার দুপুরে বলেন, ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতশৈয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী মাহবুব মল্লিকের বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে ফকিরহাট সার্কেলের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, ডাকাত দল কোনো মালামাল লুট করতে পারেনি। তাদের হামলায় দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement