সাদ্দামের কাছে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার বাগেরহাট জেলারের

অলীপ ঘটক, বাগেরহাট
বুধবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জুয়েল হাসান সাদ্দাম। ছবি: সংগৃহীত

কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ‘ঘুস চাওয়া’র অভিযোগ তুলেছেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। পাশাপাশি তাকে বাগেরহাট কারাগার থেকে যশোর কারাগারে স্থানান্তর ও সেখানে সেলে বন্দি রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতেও প্যারোল না পেয়ে দেশ জুড়ে আলোচনায় উঠে আসা এই ছাত্রীগ নেতা।

সাদ্দামের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন। সাদ্দামই বরং কারাগারে ‘আক্রমণাত্মক’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, সাদ্দামের আচরণের কারণেই তাকে যশোর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাগেরহাট কারাগারের জেলার। এর আগে জামিন পেয়ে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কারামুক্ত হন সাদ্দাম। যশোর কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি বাগেরহাট চলে যান।

বাগেরহাট পৌঁছে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন সাদ্দাম। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। বলেছে যে যদি আমাকে বাগেরহাট থাকতে হয়, তাহলে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।’

এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে তার পারিবারে। এটা কেন্দ্র করে তিনি এখন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। পাঁচ লাখ টাকার একটি অযৌক্তিক, অহেতুক, হয়রানিমূলক, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা বলে বেড়াচ্ছেন। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এমন ঘটে থাকলে তিনি যখন যশোর গেছেন, তখনই তিনি বলতে পারতেন।’

এদিকে বুধবার নিজেকে ‘নির্দোষ’ ও ‘রাজনৈতিক বন্দি’ দাবি করেন সাদ্দাম। বলেন, ‘যেসব মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেসব মামলার ঘটনার সময় আমি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলাম। পাসপোর্ট দেখিয়েও আমার জামিন হয়নি। জামিনের জন্য আমার স্ত্রী স্বর্ণালী আদালতের দ্বারে দ্বারে দৌড়ে বেড়িয়েছে। একপর্যায়ে আমার জামিন করাতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।’

সাদ্দাম আরও অভিযোগ করেন, ‘জেলবন্দিরা ফোনকলের সুবিধা পেয়ে থাকে। আমি সেই সুবিধা পাইনি। ফোনকলের সুযোগ পেলে হতাশাগ্রস্ত স্ত্রীকে বুঝাতে পারতাম, সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আমাকে যশোরের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। যদি বাগেরহাটে থাকতে পারতাম, স্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হতো, তাকে বুঝাতে পারতাম, তাহলে হয়তো সে হতাশাগ্রস্ত হতো না। যশোর কারাগারে থাকার কারণে আমার স্ত্রী ধরে নিয়েছে আমি মনে হয় আর কোনোদিন ছাড়া পাব না।’

গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। ৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে তাকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সাড়ে তিন মাস পর ২২ জুলাই বাগেরহাট থেকে তাকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়।

সাদ্দামের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার আল-মামুন বলেন, বাগেরহাট কারাগারে আসার পরদিন ৭ এপ্রিল সাদ্দামের স্ত্রী, শ্বশুরসহ আত্মীয়রা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গেছেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ যথারীতি চালু ছিল। তিনি শুরু থেকেই অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। বিভিন্ন জনকে গালাগাল, এমনকি মারধরও করছেন। নিরাপত্তার জন্য তাকে সেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে চলাচলটা সংরক্ষিত থাকে। সেল কোনো শাস্তির জায়গা না।’

জেলার আল-মামুন আরও বলেন, ‘তার আচারণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানন্তর করতে পারে না। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দি অবস্থায় গত বছরের ১২ এপ্রিল সাদ্দাম একজন সেল ইনচার্জকে হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন। ৬ জুলাই আরেক বন্দিকে মারধর করেন।

জেলার মো. আল-মামুন আরও বলেন, ‘কারারক্ষীদের হুমকি, অন্য বন্দিকে মারধরসহ একাধিকবার কারা অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি সবসময় আমাদের স্টাফ ও আশপাশের বন্দিদের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করতেন ও ভয়ভীতি দেখাতেন।’

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর (২২) ঝুলন্ত মরদেহ ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তান সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে স্বজন ও পরিবারের দাবি করে, ছেলেকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী। পরে স্বর্ণালীর বাবা এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পরদিন ২৪ জানুয়ারি বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানকে দেখেন সাদ্দাম। এ সন্তানের জন্ম তিনি কারাবন্দি থাকা অবস্থায় হওয়ায় মৃত অবস্থাতেই সন্তানকে প্রথমবার সামনাসামনি দেখেন তিনি।

সাদ্দাম ও তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, স্ত্রী-সন্তানকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেও মুক্তি পাননি সাদ্দাম। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর ঘটনাতেও কেন সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরাও।

যশোর কারা কর্তৃপক্ষ অবশ্য এক বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। একই কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৯

কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

১ দিন আগে

যান্ত্রিক ত্রুটি: বড়পুকুরিয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ফের বন্ধ

এ নিয়ে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে গেল। এর আগে গত ৩১ জুলাই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দুদিন পর ২ আগস্ট ইউনিটটি সচল হয়। ১২ দিন পর ফের ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ হলো।

১ দিন আগে

কবরস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়াল ২ গ্রামের মানুষ

এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া বাজার মোড় এলাকায় কবরস্থানের পাশেই পুলিয়া পানেশ্বর গ্রামের লোকজন দোকান ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার সকালে এ ঘটনার সময় আমগড়া গ্রামের লোকজন তাদের বাধা দেন। এতে দুই গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

২ দিন আগে

আড়ায় ঝুলছিল মায়ের মরদেহ, মেঝেতে নিথর ৪ বছর বয়সী মেয়ে

প্রতিবেশীরা জানান, কনিকার বাড়ি পাশের ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার ঝুরঝুরিয়া গ্রামে। বছর বছর ছয়েক আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকা রাজীবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই ছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে রাজীব বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান।

২ দিন আগে