যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার, পরদিন চট্টগ্রাম কারাগারে মৃত্যু

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৪: ২৭
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা থেকে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘অসুস্থ হয়ে’ এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নুরুল আলমকে আগের দিন সাতকানিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। চিকিৎসকের বরাতে কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর কারণ ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ বললেও নিহতের ভাইয়ের দাবি- নুরুল আলম ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার’।

বুধবার (২৪ জুন) কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাতকানিয়া থানার একটি মামলায় নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয়। বুধবার সকালে তিনি শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথার কথা জানান। পরে দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, নুরুল আলম ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে’ মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নুরুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। স্বজনদের ভাষ্য, মঙ্গলবার দুপুরে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারে ব্যবসা করতেন তিনি।

তবে মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। নুরুল আলমের বড় ভাই নূর মোহাম্মদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে স্থানীয় বিরোধের জের ধরে ‘যুবলীগ ট্যাগ’ দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।

তার ভাষ্য, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। তিনি নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে সাতকানিয়া থানার সামনে থেকে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরে দ্রুত আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

নূর মোহাম্মদ বলেন, কারাগারে নেওয়ার সময়ও তার ভাই সুস্থ ছিলেন। বুধবার সকালে কারাগার কর্তৃপক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর জানানো হলে তিনি হাসপাতালে যান।

ভাইয়ের দাবি, নুরুল আলমকে ‘হত্যা করা হয়েছে’। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তও দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনীতি/আরআইআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement