সিলগালার পরও চলছিল কদমতলীর লাইটার কারখানা, আগুনে ঝরল ৫ প্রাণ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৪৫
কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস লাইটার কারখানা থেকে পাঁচজনের মরহেদ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: রাজনীতি ডটকম

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় একটি গ্যাস লাইটার তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানাটির মেইন গেট তালাবদ্ধ থাকার কারণেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এর আগে গত বছর একই কারখানায় আগুন লাগার পর উপজেলা প্রশাসন এটি সিলগালা করে দিয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু কীভাবে, কার অনুমতিতে এটি আবার চালু হলো— তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে কারখানাটির বৈধতার কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ দক্ষিণের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফতাব আহমেদ।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পরে পর্যায়ক্রমে ইউনিট সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটি করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম শনিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তারা নারী নাকি পুরুষ, তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তারা ফয়সালুর রহমান জানান, টিনশেড ভবনে গড়ে ওঠা কারখানাটিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। আগুনের সূত্রপাত, অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং মালিকপক্ষের গাফিলতি ছিল কি না— এসব বিষয় খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটির মালিক আকরাম মিয়া, যিনি জিঞ্জিরা এলাকার বাসিন্দা। তবে স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, আকরাম মিয়া জমির মালিক, তিনি কারখানাটি ভাড়া দিয়েছেন। তবে আগুন লাগার পর থেকে শুরু করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত মালিকপক্ষের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরও একই গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে। সে সময় উপজেলা প্রশাসন কারখানাটি সিলগালা করে দেয়। কিন্তু এটি আবার কীভাবে চালু হলো, কে বা কারা কারখানাটি চালু করা অনুমতিতে দিলো— সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

আজ শনিবার লাগা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর সিলগালা করে দেওয়ার পরও কারা অনুমতি দিয়ে কারখানাটি পুনরায় চালু করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণে ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, জনগণের সরকারে কেউ জবাবদিহিতার বাইরে নয়। ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অবগত আছে, তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। এই অবৈধ স্থাপনার তালা কে খুলে দিল, এই কারখানার পুনরায় সচলের জন্য কে বা উদ্যোগ নিয়েছে— সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

রামেক হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

৬ ঘণ্টা আগে

দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি যাদুকাটা নদীতে সেতুর কাজ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত মহাপ্রভূ মৈত্রী সেতু’র কাজ দীর্ঘ প্রায় আট বছরেও শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, ঢিলেমি ও দীর্ঘসূত্রতার কারণেই কাজটি এখনও ঝুলে আছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

৬ ঘণ্টা আগে

ঈশ্বরগঞ্জে ইউপি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ

মাইজবাগ ইউপি চেয়ারম্যান মো. ছাইদুল ইসলাম জানান, গত ২৯ মার্চ উপজেলার তারাটি গ্রামের শাফিয়া আক্তার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনলাইনে একটি ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেন। পরে ঘটনাক্রমে লাইসেন্সটি তার হাতে এলে তিনি দেখতে পান, এতে থাকা স্বাক্ষরটি তার নয়।

৭ ঘণ্টা আগে

সিরাজগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে নিহত ৩, আহত ১০

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

১ দিন আগে