মুগদায় বাসার বেজমেন্টে মরদেহের ৭ টুকরো, মাথা উদ্ধার মানিকনগরে

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মুগদা এলাকার একটি বাসার বেজমেন্ট থেকে গতকাল রোববার এক ব্যক্তির মরদেহের সাতটি খণ্ডিত টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর বিচ্ছিন্ন থাকা নিহতের মাথাটি গতকাল গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী মানিকনগর এলাকার একটি গলি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে আলাদা আলাদা স্থানে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৭ মে) দুপুরে মুগদার মান্ডা প্রথম গলি আব্দুল করিম রোডের ২৬০/১ নম্বর ‘শাহনাজ ভিলা’ নামের একটি বাড়ির বেজমেন্ট থেকে ওই খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে সেখানে নিহতের মাথাটি পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে একই দিন রাত আড়াইটার দিকে পূর্ব মানিকনগর পাকা রাস্তার মাথার একটি গলি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

সুরতহাল প্রতিবেদনে মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান জানান, গভীর রাতে খবর পেয়ে পূর্ব মানিকনগর পাকা রাস্তার মাথায় ৭৭ ও ৭৭/এ নম্বর দুটি বাড়ির মাঝের গলি থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় সেটি পড়ে ছিল। পুলিশের ধারণা, দুপুরে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত দেহেরই বিচ্ছিন্ন মাথা এটি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাথাটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন জানান, শাহনাজ ভিলার বেজমেন্ট থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচে-গলে গিয়েছিল এবং পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এসেছিল। তিনি আরও জানান, ‘প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তিকে অন্য কোনো স্থানে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের জন্য শরীর সাত টুকরো করে পলিথিনে ভরে এই বাড়ির বেজমেন্টে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।’

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আঙুলের ছাপের (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করলেও মরদেহটি পচে যাওয়ার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। হত্যাকারীদের শনাক্ত ও নিহতের পরিচয় উদঘাটনে ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

Ad
Ad
ad
ad
ad

মাঠের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

রংপুরে ৪ খুন: বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, আটক ২

শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজেদের বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ির ছাদ, চিলেকোঠা ও বিভিন্ন কক্ষ থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়।

১৭ ঘণ্টা আগে

ঘরে-ছাদে-সিঁড়িতে ছড়িয়ে ছিল দম্পতি ও ২ সন্তানের মরদেহ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়িটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় বাসার বিভিন্ন স্থানে চারজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

১ দিন আগে

এক নারীকে স্ত্রী দাবি দুই ভাইয়ের, মারামারির ভিডিও ভাইরাল

ওই নারী কয়েক দিন আগে তার দেবরের (২৫) সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। পরে ঢাকার সাভারে তার খোঁজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে আত্মীয়স্বজন তাকে ভাঙ্গায় নিয়ে যান। এরপর থানার সামনে তাকে নিয়ে দুই ভাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।

১ দিন আগে

জয়পুরহাটে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু

এজাহারে বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে উচ্চ শব্দে গান বাজান মেহেদী হাসান। পরে প্লায়ার্স (ধাতব কোনো বস্তু শক্ত করে ধরা, বাঁকানো ও চাপা দেওয়ার যন্ত্র) দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর কাস্তে গরম করে তার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

১ দিন আগে