সরাসরি

প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ ৪২ হাজার কোটি টাকা

১১: ৩২

প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ ৪২ হাজার কোটি টাকা

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় এক হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বরাদ্দ করা অর্থের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় প্রয়োজনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া দেশে ও বিদেশে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও অপারেশন কার্যক্রমের পরিকল্পনা, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্নেল বা সমমান এবং তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রমও এই বরাদ্দের আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।

বাজেটে আরও বলা হয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সমন্বয়, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদ বাস্তবায়ন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ এবং যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও পরিচালনায়ও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

গত চার অর্থবছর ধরেই প্রতিরক্ষা খাতে ধারাবাহিকভাবে বরাদ্দ বাড়ছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৩৯ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

১১: ২৬

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়ে দ্বিগুণ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ০১ শতাংশ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী অর্থবছরের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত। তবে ফ্যাসিবাদী সময়ে স্বাস্থ্য খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণ ক্রয়ে বিপুল ব্যয় হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।

১১: ০৯

সবাইকে ই-হেলথ কার্ড দেবে সরকার, স্বাস্থ্যে বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য

জনগণের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ সরকারের স্বাস্থ্যনীতির ৫ মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দেওয়া হবে ই-হেলথ কার্ড। বলেছেন, সরকার পর্যায়ক্রমে এ খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। এ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন তিনি, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

অর্থমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্যনীতির পাঁচ মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন বাজেট বক্তৃতায়। এগুলো হলো—

  • সর্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ;
  • চিকিৎসা-কেন্দ্রিক থেকে প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রূপান্তর;
  • গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া;
  • মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান জোরদারকরণ; এবং
  • স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও চিকিৎসা শিল্পের বিকাশ ঘটানো।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

১০: ৪৭

শিক্ষায় বরাদ্দ জিডিপির ২%, বাড়ল ৫০ হাজার কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, এই বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি। পাঁচ বছর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এ বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামের এই বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী।

১০: ৩২

বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় যে পরিকল্পনা জানালেন অর্থমন্ত্রী

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

এই ঘাটতি মোকাবিলার পরিকল্পনা তুলে ধরে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব পেশ করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ছয় হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করেছি।

১০: ২৬

সামাজিক যোগাযোগ অবকাঠামোতে বরাদ্দ ২ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার এক কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, এই অঙ্ক মোট বরাদ্দের ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

আমীর খসরু বলেন, সামাজিক খাতের বর্ধিত ও সর্বোচ্চ ব্যয় প্রস্তাব সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিফলন।

১০: ০৬

উন্নয়ন ব্যয় বাড়ছে, কমছে পরিচালন ব্যয়— বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উন্নয়ন ব্যয় বাড়িয়ে পরিচালন ব্যয় কমানোর কৌশল গ্রহণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের সময় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ক্রমান্বয়ে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১০: ০৩

বাজেট জিডিপির ১৩.৭%, এডিপি ৩ লাখ কোটি টাকা

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

০৯: ৫৯

৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য বাজেটে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আয়ের এই প্রাক্কলন জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করছি।

০৯: ৫৫

লক্ষ্য ঋণভিত্তিক অর্থনীতিকে থেকে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা: অর্থমন্ত্রী

ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দেশকে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমরা ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর করছি। আমাদের লক্ষ্য বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে দূরে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, আমাদের সরকার দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।

বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতির দিকে অগ্রসরের পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের জন্য বন্ড মার্কেট এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে, যেন ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর চাপ কমে। করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের উন্নয়ন চলমান আছে।

দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস গড়ে তুলতে কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ, স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।

০৯: ২৮

৭.৫% মূল্যস্ফীতি, ৬.৫% জিডিপির লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় এ ঘোষণা কিছুটা হলেও স্বস্তির হবে। সবশেষ মে মাসেও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।

এদিকে সরকার একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ৎঅর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

০৯: ২৩

বাজেটে ১০টি অগ্রাধিকার

১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে যে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

  • সবার জন্য উন্নয়ন
  • সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা
  • সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা
  • বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি
  • বিনিয়ন্ত্রণকরণ এবং সাশ্রয়ী ও সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ
  • আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা
  • জ্বালানি নিরাপত্তা
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ
  • জীবন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা
  • স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
০৯: ১৪

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শুরু

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শুরু
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভিডিও থেকে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করতে শুরু করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার অনুমোদন দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন। উপস্থিত রয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যরা।

০৯: ০৯

সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কী কাজে লাগে?

সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কী কাজে লাগে?

দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য প্রশ্ন— বাজেট ঘোষণার পর বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে, নাকি আরও কঠিন? চাকরির সুযোগ বাড়বে কি? চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা কমবে কি?

বিস্তারিত পড়ুন এখানে— সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কী কাজে লাগে?

০৯: ০৮

৫৫ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ১০ হাজার গুণ

৫৫ বছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ১০ হাজার গুণ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার গুণেরও বেশি। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেটের মোট আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা, যেখানে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। প্রথম বাজেটে ঘাটতি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে, আর সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬ শতাংশ)।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাংলাদেশের বাজেট যাত্রা: আকার বেড়েছে ১০ হাজার গুণ

০৯: ০৬

তরুণদের আড্ডাতেও বাজেট

তরুণদের আড্ডাতেও বাজেট

ঢাকার একটি কফি শপে বসে চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার ট্রেইলার কিংবা ছুটির দিনের পরিকল্পনা নয়, বরং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তারই খসড়া ও সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো!

হ্যাঁ, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বাজেট সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে, তা নিয়েই দেশের সচেতন তরুণ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাজেট নিয়ে কী ভাবছেন দেশের তরুণরা?

০৯: ০৫

প্রান্তিক মানুষের কাছে বাজেট মানে কী?

প্রান্তিক মানুষের কাছে বাজেট মানে কী?

কাগজে-কলমে বাজেট মানে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের খতিয়ান। কিন্তু সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বের হয়ে এই শব্দটা যখন কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত, সদরঘাটের কুলি বাসের কাউন্টার কিংবা মিরপুরের মেসগুলোতে পৌঁছায়, তখন এর অর্থ পুরোপুরি বদলে যায়।

সাধারণ মানুষের কাছে বাজেট মানে কোনো তাত্ত্বিক সংজ্ঞা নয়; বাজেট মানে চালের বস্তার দাম, বাসের ভাড়া, আর মাসের শেষে পকেটে কয়টা টাকা অবশিষ্ট থাকল তার বাস্তব খতিয়ান।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে— প্রান্তিক মানুষের কাছে বাজেট মানে কী?

০৯: ০৩

১৯ বছর পর বাজেট দিচ্ছে বিএনপি সরকার

দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই হবে দলটির প্রথম বাজেট।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে— ১৯ বছর পর বাজেট বিএনপি সরকারের

০৮: ৫০

মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদন

মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদন
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।

এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

০৮: ৫০

সারসংক্ষেপ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করবেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষা।