
টিম রাজনীতি ডটকম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকায় এ ঘোষণা কিছুটা হলেও স্বস্তির হবে। সবশেষ মে মাসেও মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি ছিল।
এদিকে সরকার একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ৎঅর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেটে যে ১০টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করতে শুরু করেছেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। তার অনুমোদন দিয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী।
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে উপস্থিত রয়েছেন। উপস্থিত রয়েছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা, সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্যরা।

দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এসব পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য প্রশ্ন— বাজেট ঘোষণার পর বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম বাড়বে নাকি কমবে? সংসারের খরচ সামলানো সহজ হবে, নাকি আরও কঠিন? চাকরির সুযোগ বাড়বে কি? চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় কিছুটা কমবে কি?
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেট কী কাজে লাগে?

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার গুণেরও বেশি। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের প্রথম বাজেটের মোট আকার ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা, যেখানে সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। প্রথম বাজেটে ঘাটতি ছিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে, আর সর্বশেষ বাজেটে ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬ শতাংশ)।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাংলাদেশের বাজেট যাত্রা: আকার বেড়েছে ১০ হাজার গুণ

ঢাকার একটি কফি শপে বসে চার-পাঁচজন তরুণ-তরুণী ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখছেন। আড্ডার মূল বিষয়বস্তু কোনো সিনেমার ট্রেইলার কিংবা ছুটির দিনের পরিকল্পনা নয়, বরং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তারই খসড়া ও সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো!
হ্যাঁ, বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে বাজেট সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখন পর্যন্ত উঠে এসেছে, তা নিয়েই দেশের সচেতন তরুণ ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের মধ্যে চলছে তুমুল আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— বাজেট নিয়ে কী ভাবছেন দেশের তরুণরা?

কাগজে-কলমে বাজেট মানে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের খতিয়ান। কিন্তু সচিবালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে বের হয়ে এই শব্দটা যখন কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত, সদরঘাটের কুলি বাসের কাউন্টার কিংবা মিরপুরের মেসগুলোতে পৌঁছায়, তখন এর অর্থ পুরোপুরি বদলে যায়।
সাধারণ মানুষের কাছে বাজেট মানে কোনো তাত্ত্বিক সংজ্ঞা নয়; বাজেট মানে চালের বস্তার দাম, বাসের ভাড়া, আর মাসের শেষে পকেটে কয়টা টাকা অবশিষ্ট থাকল তার বাস্তব খতিয়ান।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— প্রান্তিক মানুষের কাছে বাজেট মানে কী?
দীর্ঘ ১৯ বছর পর জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটিই হবে দলটির প্রথম বাজেট।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে— ১৯ বছর পর বাজেট বিএনপি সরকারের

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন।
এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বাজেট উত্থাপন করবেন। এরই মধ্যে মন্ত্রিসভায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদে উত্থাপনের অপেক্ষা।