শ্রীনগর

আলুর দাম বৃদ্ধিতে লোকসান পুষিয়ে নেয়ার আশায় কৃষক

খান সুজন, শ্রীনগর প্রতিনিধি
আলুর বাজার ঊর্ধ্বগতির ফলে চাষিদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। ছবি : সংগৃহীত

শ্রীনগরে আলুর মণ বিকিকিনি হচ্ছে সাড়ে ১২০০ টাকা দরে। সেই হিসেবে কৃষকের উৎপাদিত প্রতি কেজি আলুর দাম ধরা হচ্ছে ৩১.২৫ টাকা। এদিকে খুচরা বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার টন। গেল বছরের তুলনায় ৫ হাজার টন কম। এরই মধ্যে এ অঞ্চলে ক্ষেতের আলু উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। আলুর কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ক্ষেত থেকেই আলু বিক্রি করছেন।

তবে এ বছর আলু আবাদের প্রথম দিকে ঝূর্ণিঝড় মিকজাউমের প্রভাব ও টানা বৃষ্টিতে প্রায় সাড়ে ৬০০ হেক্টর আলুর জমি আক্রান্ত হয়। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পুনরায় জমিতে আলুর বীজ বপণ করতে হয় ভুক্তভোগী কৃষকদের। এছাড়া মৌসুমের মাঝামাঝির দিকে আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট রোগের আক্রমণে সবুজ আলু গাছ পচনে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন ও বাজার মূল্য না পাওয়ার শঙ্কায় প্রান্তিক কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে বর্তমান আলুর বাজার ঊর্ধ্বগতির ফলে আলু চাষিদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

স্থানীয়রা জানান, এ বছর আলু ক্ষেতিতে লেট ব্লাইট রোগের আক্রামণে গাছে পচন ধরে। আক্রান্ত জমিতে এতে ফলন অর্ধেক হয়েছে। এর আগে বৃষ্টিতে বীজ বপণকৃত জমি নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা পুনরায় জমিতে আলু চাষ করেনে। ২ সপ্তাহ আগেও পর্যায়ক্রমে স্থানীয় বেপারীরা কৃষকের আলু ক্রয় করেছেন সাড়ে ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০০ টাকা পর্যন্ত। দু’দিনে (শনিবার-রবিবার) আলুর মণ প্রতি বেড়েছে ১৫০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বীরতারা, তন্তর, আটপাড়া, কুকুটিয়া, ষোলঘর ইউনিয়নের খৈয়াগাঁও ও পুর্ব দেউলভোগ চকে ব্যাপক আলুর চাষাবাদ হচ্ছে।

শহিদুল নামে এক কৃষক বলেন, ২ বিঘা জমি ফোসকা (লেট ব্লাইট) রোগে আক্রমণে আলুর ফলন অর্ধেক হয়েছে। বিবন্দীর আলম হোসেন বলেন, তার ১ কানি (১৪০ শতাংশ) আলু ক্ষেতে লেট ব্লাইট রোগে আক্রমণে গাছ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ক্ষেতে আলু গাছ সব মরে গেছে এতে দ্রুত আলু উঠানোর পরিকল্পনা করছি। এর মধ্যে ১২ গন্ড একটি জমিতে আলু পেয়েছি মাত্র ৭৭ বস্তা।

রুসদীর ফারুক নামে একজন বলেন, প্রায় ৬ কানি জমিতে আলু চাষ করেছি। উত্তোলনের প্রথম ধাপে পাইকারের কাছে অগ্রিম আলু বিক্রি করেছি ১০৭৫ টাকা মণ দরে। এখন আলুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

বীরতারার মোখলেছ মেম্বার বলেন, স্থানীয় হিমাগারে আলু সংরক্ষণে প্রতি বস্তার জন্য ভাড়া গুনতে হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা। ৫০ কেজির পাটের বস্তার দাম ধরা হচ্ছে প্রায় ৫০ টাকা। এছাড়া আলু হিমাগারের পাঠাতে পরিবহন খরচ বাবদ প্রতি বস্তা আলুর জন্য দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা। হিমাগারে রাখা পর্যন্ত প্রতি মণ উৎপাদিত আলুর দাম পড়ছে ১৫৫০-১৬০০ টাকা।

আরিফ হামজা নামে এক আলুর বেপারী বলেন, গত কয়েকদিন আগে প্রতি মণ ১০৫০-১০৭৫ টাকা দরে আলুর কেনা হয়েছে। এখন প্রকার ভেদে আলু মণ কেনাবেচা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১২০০ টাকা করে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোহসিনা জাহান তোরণ জানান, আলু গাছের পচন দমনরোধে সবাইকে একযোগে একই মাঠে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এতে আক্রান্ত জমিতে একেবারে গাছ মরে যাওয়া থেকে অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছে। সাইক্সা, সিকিউর, এক্সাট্রামিন এবং প্রয়োজনে সাপেক্ষে অটেনস্টিন কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয় স্থানীয়দের। এ বছর উপজেলায় ১৯০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হচ্ছে। আলুর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৫৭ হাজার টন। আলুর ফলন কিছুটা কম হলেও আলুর বর্তমান বাজার মূল্যে কৃষক খুশি।

ad
ad

অর্থের রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

খুলনায় কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কর্মসংস্থান ব্যাংকের ৯০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা ২০২৬’। ব্যাংকের খুলনা ও যশোর অঞ্চলের অধীন ২৮টি শাখার ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তারা এ সভায় অংশ নেন।

২ দিন আগে

জ্বালানি সংকটে দ্রব্যমূল্য বাড়ার শঙ্কা অর্থমন্ত্রীর

র্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে 'মরার ওপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২ দিন আগে

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কী চাইলেন ব্যবসায়ীরা, জানালেন অর্থমন্ত্রী

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া এ বৈঠককে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩ দিন আগে

বাংলা কিউআর আপনাকে কী কী সুবিধা দেবে?

ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু করা ‘বাংলা কিউআর’ দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে ফেলতে হবে।

৩ দিন আগে