
ফজলুল বারী

দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক কার্যদিবসে পতনের পর বাজারের প্রধান সূচক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। এর এক সপ্তাহ আগে গত রোববার কমেছিল ৪১ পয়েন্ট, সোমবার সূচক কমেছিল ১৬ পয়েন্ট।
কেবল সূচকই নয়, একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও, যা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। রোববার লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক দিনেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ছয় হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। লেনদেনে থাকা ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ৩৪৮টির।
গত সপ্তাহে অবশ্য সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখানো হয়েছিল। সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট ও শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু পুরো সপ্তাহ জুড়ে সূচকের ওঠানামা ছিল অত্যন্ত অস্থির। অন্যদিকে এসএমই খাতের সূচক কমেছিল ২৬ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।
শুধু গত সপ্তাহ নয়, তার আগের সপ্তাহেও বাজারে পতনের ধারা ছিল স্পষ্ট। এরও আগে টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে প্রধান সূচক হারিয়েছিল ১৩৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ সামান্য উত্থান দিয়ে বাজারের ধনাত্মক প্রবণতার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, তার ভিত্তি খুব একটা শক্তিশালী ছিল না।
প্রশ্ন হচ্ছে— বাজারের প্রকৃত সমস্যা কোথায়?
বাজারের বিভিন্ন মৌলিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক শেয়ারের মূল্য এখনো বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। ইপিএস ও পিই অনুপাত বিবেচনায় বাজারের অনেক সিকিউরিটিজকে ক্রয়ানুকূল মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে না লেনদেনে। প্রত্যাশিত ক্রেতা বাজারে আসছে না। অর্থাৎ সমস্যা শুধু শেয়ারের দামে নয়; বড় সমস্যা আস্থা, ব্যবস্থাপনা ও বাজারের পরিবেশে।
সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ভালো শেয়ার রয়েছে। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা মাত্র ১৫ বা ২০টিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এখনো অন্তত ৬৪টি সিকিউরিটিজ রয়েছে, যেগুলো মৌলিক সূচক, আয়, সম্পদ, ব্যবসার সক্ষমতা ও মূল্যায়নের দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসতে পারে। বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ডও রয়েছে, যেগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।
একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান যখন বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত বলে মন্তব্য করেন, তখন সেটি বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি বাজারে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে।
গত সপ্তাহে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খানের একটি ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তিনি বলেছিলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারের লেনদেন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করবে না। বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ওই ঘোষণার পরদিনই পুরোনো একটি জরিমানার সিদ্ধান্ত নতুন করে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাজার যখন আস্থা সংকটে ভুগছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশের সময় নির্বাচনও কি বাজারের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে না? সিদ্ধান্তটি যদি পুরোনো হয়, তাহলে সেটি প্রকাশের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে।
বাজারে অস্থিরতার আরেকটি কারণ হিসেবে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান বোর্ড ও প্রশাসনের ভেতর থেকেই এমন কিছু বার্তা ও গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিভিন্ন মহলে এমন কথাও ছড়িয়েছে, ডিএসইএক্সকে ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজকে চিঠি দেওয়া, টেলিফোনে চাপ তৈরি ও বাজার নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক গুঞ্জন ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বাজারে দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, শিল্প উৎপাদন এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে— এটি বাস্তবতা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এসব নেতিবাচক বাস্তবতা কি বাংলাদেশের সামনে কেবল অন্ধকার ভবিষ্যতের চিত্রই তুলে ধরে?
মোটেই না। অর্থনীতি কঠিন অবস্থায় থাকলেও পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। মন্দার কারণে নতুন শিল্প বিনিয়োগ কমে গেলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের বিকল্প গন্তব্যের প্রয়োজন হয়। ব্যাংকে অর্থ রেখে বা প্রচলিত ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রত্যাশিত মুনাফা না পাওয়া গেলে পুঁজিবাজার আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি। রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চিত অর্থ রয়েছে। কিন্তু সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে আসার জন্য প্রয়োজন আস্থা ও একটি বিশ্বাসযোগ্য বাজার।
সেখানেই পুঁজিবাজারের বড় সুযোগ। কারণ পুঁজিবাজার শক্তিশালী হলে শুধু বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, সরকারের জন্যও এটি হতে পারে অর্থ সংগ্রহের একটি কার্যকর ক্ষেত্র। শক্তিশালী বাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে। একটি কার্যকর পুঁজিবাজার সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্যই অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু সেই সম্ভাবনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আস্থাহীনতা। আর সেই আস্থাহীনতা তৈরি হয় যখন বাজারের ভেতর থেকেই বিনিয়োগবিরোধী বয়ান তৈরি হয়। এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে— বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো ভালো সিকিউরিটিজ নেই।
এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডিএসইতে এখনো এমন অন্তত ৬৪টি সিকিউরিটিজ রয়েছে, যেগুলো মৌলিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসতে পারে। ব্যাংক খাতে রয়েছে ১৭টি, সিমেন্ট খাতে ৪টি, প্রকৌশল খাতে ৭টি, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪টি, খাদ্য খাতের ৩টি এবং জ্বালানি খাতের ১০টি কোম্পানি।
এ ছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ৩৮টি, জীবন বীমা খাতে ৫টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩টি, বিবিধ খাতে ৩টি, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৪টি, সেবা ও আবাসন খাতে ২টি, বস্ত্র খাতে ১১টি এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে অন্তত একটি কোম্পানির সিকিউরিটিজ রয়েছে।
অবশ্য এই তালিকায় থাকা সব কোম্পানিকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা যাবে না। প্রতিটি কোম্পানির আয়, ঋণ, সম্পদ, নগদ প্রবাহ, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানি নেই— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
বিশেষ করে অনেক শেয়ারের ট্রেইলিং ইপিএস ও ট্রেইলিং পিই অনুপাত এখনো আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকটি শক্তিশালী খাতের শেয়ারের মূল্যায়ন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে প্রধান সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সমস্যা হলো— বাজারকে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না।
পুঁজিবাজার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এখানে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি— সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বাজারে কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত আশাবাদী প্রচারও বিপজ্জনক। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
বিএসইসির চলমান তদন্ত নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে সেটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা বাজারকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। নীতিগত সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং গুঞ্জননির্ভর পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুঁজিবাজারকে নিজের গতিতে চলার সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে— অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু কঠিন সময়ই সবসময় শুধু সংকট তৈরি করে না, কখনো কখনো সুযোগও তৈরি করে। ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের শক্তিশালী উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তোলার এখনই সময়।
কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন বাজারের প্রতি বিশ্বাস। বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে হবে, এখানে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং বাজারের স্বাভাবিক গতিপথকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না।
পুঁজিবাজারের সমুদ্র বিশাল। এর গভীরতা, সম্ভাবনা ও গুরুত্বও বিশাল। এই সমুদ্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের দৃষ্টিও হতে হবে সেই বিশালতার সমান।
কারণ পুঁজির এই বিশাল সাগরে ক্ষুদ্র মানসিকতা, ক্ষুদ্র স্বার্থ এবং ক্ষুদ্র দৃষ্টিভঙ্গি বেমানান। ওরা হয়তো পুঁটি মাছ। কিন্তু পুঁজির সাগর পুঁটি মাছের জন্য নয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

দেশের শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক কার্যদিবসে পতনের পর বাজারের প্রধান সূচক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। এর এক সপ্তাহ আগে গত রোববার কমেছিল ৪১ পয়েন্ট, সোমবার সূচক কমেছিল ১৬ পয়েন্ট।
কেবল সূচকই নয়, একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও, যা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। রোববার লেনদেনের পরিমাণ কমে ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক দিনেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ছয় হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। লেনদেনে থাকা ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডের মধ্যে দর কমেছে ৩৪৮টির।
গত সপ্তাহে অবশ্য সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখানো হয়েছিল। সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট, ডিএসই-৩০ সূচক ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট ও শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু পুরো সপ্তাহ জুড়ে সূচকের ওঠানামা ছিল অত্যন্ত অস্থির। অন্যদিকে এসএমই খাতের সূচক কমেছিল ২৬ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট।
শুধু গত সপ্তাহ নয়, তার আগের সপ্তাহেও বাজারে পতনের ধারা ছিল স্পষ্ট। এরও আগে টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে প্রধান সূচক হারিয়েছিল ১৩৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ সামান্য উত্থান দিয়ে বাজারের ধনাত্মক প্রবণতার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল, তার ভিত্তি খুব একটা শক্তিশালী ছিল না।
প্রশ্ন হচ্ছে— বাজারের প্রকৃত সমস্যা কোথায়?
বাজারের বিভিন্ন মৌলিক সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অনেক শেয়ারের মূল্য এখনো বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। ইপিএস ও পিই অনুপাত বিবেচনায় বাজারের অনেক সিকিউরিটিজকে ক্রয়ানুকূল মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু সেই সম্ভাবনার প্রতিফলন ঘটছে না লেনদেনে। প্রত্যাশিত ক্রেতা বাজারে আসছে না। অর্থাৎ সমস্যা শুধু শেয়ারের দামে নয়; বড় সমস্যা আস্থা, ব্যবস্থাপনা ও বাজারের পরিবেশে।
সম্প্রতি বিএসইসির চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাজারে মাত্র ১৫ থেকে ২০টি ভালো শেয়ার রয়েছে। দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে এ ধরনের মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানির সংখ্যা মাত্র ১৫ বা ২০টিতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এখনো অন্তত ৬৪টি সিকিউরিটিজ রয়েছে, যেগুলো মৌলিক সূচক, আয়, সম্পদ, ব্যবসার সক্ষমতা ও মূল্যায়নের দিক থেকে বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় আসতে পারে। বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ডও রয়েছে, যেগুলো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।
একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান যখন বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত বলে মন্তব্য করেন, তখন সেটি বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি বাজারে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে।
গত সপ্তাহে বিএসইসির বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খানের একটি ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তিনি বলেছিলেন, বিএসইসি পুঁজিবাজারের লেনদেন কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করবে না। বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে লেনদেন পরিচালিত হওয়ার প্রত্যাশা থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং ওই ঘোষণার পরদিনই পুরোনো একটি জরিমানার সিদ্ধান্ত নতুন করে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বাজার যখন আস্থা সংকটে ভুগছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশের সময় নির্বাচনও কি বাজারের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলে না? সিদ্ধান্তটি যদি পুরোনো হয়, তাহলে সেটি প্রকাশের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হতে পারে।
বাজারে অস্থিরতার আরেকটি কারণ হিসেবে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বর্তমান বোর্ড ও প্রশাসনের ভেতর থেকেই এমন কিছু বার্তা ও গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিভিন্ন মহলে এমন কথাও ছড়িয়েছে, ডিএসইএক্সকে ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজকে চিঠি দেওয়া, টেলিফোনে চাপ তৈরি ও বাজার নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক গুঞ্জন ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বাজারে দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, শিল্প উৎপাদন এবং আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নানা নেতিবাচক আলোচনা চলছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে— এটি বাস্তবতা। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে— এসব নেতিবাচক বাস্তবতা কি বাংলাদেশের সামনে কেবল অন্ধকার ভবিষ্যতের চিত্রই তুলে ধরে?
মোটেই না। অর্থনীতি কঠিন অবস্থায় থাকলেও পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। মন্দার কারণে নতুন শিল্প বিনিয়োগ কমে গেলে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিলে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের বিকল্প গন্তব্যের প্রয়োজন হয়। ব্যাংকে অর্থ রেখে বা প্রচলিত ব্যবসায় বিনিয়োগ করে প্রত্যাশিত মুনাফা না পাওয়া গেলে পুঁজিবাজার আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি। রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্যক্তি পর্যায়ে সঞ্চিত অর্থ রয়েছে। কিন্তু সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে আসার জন্য প্রয়োজন আস্থা ও একটি বিশ্বাসযোগ্য বাজার।
সেখানেই পুঁজিবাজারের বড় সুযোগ। কারণ পুঁজিবাজার শক্তিশালী হলে শুধু বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হবেন না, সরকারের জন্যও এটি হতে পারে অর্থ সংগ্রহের একটি কার্যকর ক্ষেত্র। শক্তিশালী বাজারের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি তৈরি হবে। একটি কার্যকর পুঁজিবাজার সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জন্যই অর্থ সংগ্রহের বিকল্প পথ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু সেই সম্ভাবনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আস্থাহীনতা। আর সেই আস্থাহীনতা তৈরি হয় যখন বাজারের ভেতর থেকেই বিনিয়োগবিরোধী বয়ান তৈরি হয়। এখন সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে— বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার মতো ভালো সিকিউরিটিজ নেই।
এই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডিএসইতে এখনো এমন অন্তত ৬৪টি সিকিউরিটিজ রয়েছে, যেগুলো মৌলিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারীদের নজরে আসতে পারে। ব্যাংক খাতে রয়েছে ১৭টি, সিমেন্ট খাতে ৪টি, প্রকৌশল খাতে ৭টি, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪টি, খাদ্য খাতের ৩টি এবং জ্বালানি খাতের ১০টি কোম্পানি।
এ ছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ৩৮টি, জীবন বীমা খাতে ৫টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩টি, বিবিধ খাতে ৩টি, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১৪টি, সেবা ও আবাসন খাতে ২টি, বস্ত্র খাতে ১১টি এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে অন্তত একটি কোম্পানির সিকিউরিটিজ রয়েছে।
অবশ্য এই তালিকায় থাকা সব কোম্পানিকে একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা যাবে না। প্রতিটি কোম্পানির আয়, ঋণ, সম্পদ, নগদ প্রবাহ, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বাজারে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানি নেই— এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
বিশেষ করে অনেক শেয়ারের ট্রেইলিং ইপিএস ও ট্রেইলিং পিই অনুপাত এখনো আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। কয়েকটি শক্তিশালী খাতের শেয়ারের মূল্যায়ন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এলে প্রধান সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
সমস্যা হলো— বাজারকে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না।
পুঁজিবাজার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এখানে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ ও তালিকাভুক্ত কোম্পানি— সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বাজারে কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত আশাবাদী প্রচারও বিপজ্জনক। প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মের নিরপেক্ষ প্রয়োগ।
বিএসইসির চলমান তদন্ত নিয়ে কোনো পক্ষের আপত্তি থাকলে সেটি আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা বাজারকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। নীতিগত সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং গুঞ্জননির্ভর পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুঁজিবাজারকে নিজের গতিতে চলার সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কঠিন সময় পার করছে— অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু কঠিন সময়ই সবসময় শুধু সংকট তৈরি করে না, কখনো কখনো সুযোগও তৈরি করে। ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের শক্তিশালী উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তোলার এখনই সময়।
কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন বাজারের প্রতি বিশ্বাস। বিনিয়োগকারীদের বোঝাতে হবে, এখানে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং বাজারের স্বাভাবিক গতিপথকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না।
পুঁজিবাজারের সমুদ্র বিশাল। এর গভীরতা, সম্ভাবনা ও গুরুত্বও বিশাল। এই সমুদ্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের দৃষ্টিও হতে হবে সেই বিশালতার সমান।
কারণ পুঁজির এই বিশাল সাগরে ক্ষুদ্র মানসিকতা, ক্ষুদ্র স্বার্থ এবং ক্ষুদ্র দৃষ্টিভঙ্গি বেমানান। ওরা হয়তো পুঁটি মাছ। কিন্তু পুঁজির সাগর পুঁটি মাছের জন্য নয়।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এখন কিনতে খরচ হবে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা, যা গতকাল বুধবারও ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের সোনা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬১৪ টাকা এবং সনা
৪ দিন আগে
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি যেকোনো সময় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কা এখনও অমূলক নয়। ফলে বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।
৪ দিন আগে
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকায়, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা।
৪ দিন আগে
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গহনার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
৫ দিন আগে