
শাহরিয়ার শরীফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে মাত্র কয়েকদিন। প্রচারে সরগরম সারা দেশ। বিশ্রামের সময় নেই প্রার্থীদের। ধানের শীষের প্রার্থীরাও বিরামহীন জনসংযোগে ব্যস্ত দেশ জুড়ে। ব্যস্ত তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। তবে ধানের শীষের অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল নয়, মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার দলের নেতারাই!
হাতেগোনা একটি-দুটি নয়, রীতিমতো ৭৯টি আসনে বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা রয়েছেন এমন বিপাকে। সেখানে জয় ছিনিয়ে নিতে যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাদের দলেরই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা, ভোটের মাঠে যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন বড় ‘ফ্যাক্টর’। এই ৭৯ আসনে এমন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সংখ্যা ৯২!
তৃণমূলের তথ্য বলছে, নির্বাচনি মাঠে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত নেতার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। কোনো কোনো আসনে তাদের পক্ষেই জয়ের পাল্লা ভারী হয়ে যেতে পারে। আবার কোথাও কোথাও বিএনপির মূল প্রার্থীর সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ‘ভোট কাটাকাটি’তে জয়ের পাল্লা ঝুঁকে পড়তে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর দিকে। ফলে অনেক আসনেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা ভয় ছড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে।
নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘বিদ্রোহী’দের ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। অনেককে বহিষ্কার করেছে দল থেকে। এরপর কেউ কেউ দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেনদলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের বহিষ্কারাদেশ তুলেও নিয়েছে বিএনপি।
তবে ৯২ ‘বিদ্রোহী’ নেতা এখনো ভোটের মাঠ ছাড়ার বিষয়ে নমনীয় হননি। বহিষ্কারের আদেশ মাথায় নিয়েই আছেন ভোটের লড়াইয়ে। বিএনপি বা বিএনপিসমর্থিত জোটের প্রার্থীদের থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বলেও বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তারা। নানা চেষ্টার পরও এ রকম যাদের মাঠ থেকে সরানো যাচ্ছে না, বিএনপি ভবিষ্যতে তাদের দলে ফেরানোর সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে দলটির মধ্যে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘অনেক দিন দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। এই সময়ে দলে প্রার্থী হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য নেতা তৈরি হয়েছেন, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।’
‘তারপরও শুরু থেকেই আমরা নানাভাবে চেষ্টা করেছি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে। কিন্তু কিছু জায়গায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবে নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। আশা করি প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাবে,’— বলেন নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার চারটি আসনেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। বাগেরহাট-১ আসনে তার সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা শেখ মাছুদ রানা, বাগেরহাট-৪ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন কাজী খায়রুজ্জামান। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তিনজনকেই বহিষ্কার করা হয়েছে।
এম এ এইচ সেলিমের দাবি, দলের মনোনীত প্রার্থীরা এলাকায় পরিচিত নন। তিনি বিএনপির আসন রক্ষার স্বার্থেই নির্বাচনে নেমেছেন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয়ে অন্য দল সুবিধা পেতে পারে।
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলির বিপক্ষে মাঠে রয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা এস এ সিদ্দিক সাজু। তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সাবেক এপিএস মো. আবদুল মতিন খান। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি মাঠে সক্রিয়। এখানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. আনোয়ার হোসাইন।
দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামানের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও জাকারিয়া বাচ্চু।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী হাসাদুল ইসলাম হিরা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।
সিলেট-৫ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোটসঙ্গীকে। এ আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুর রহমান সুমনের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুকুল ইসলাম রাজীব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী শাহ মোজাম্মেল হোসেন।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন মাইনুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) মাহমুদুল হাসানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুল হক চুন্নু।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এম এ মালেক খানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল ইসলাম সাজু।
পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের বিপক্ষে বিদ্রোহী সাখাওয়াত হোসেন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবরের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু।
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী কামরুল ইসলাম।
নড়াইল-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী গৌতম মিত্র।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বিপক্ষে বিদ্রোহী শহীদুজ্জামান বেল্টু।
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ আহমেদ মোজাম্মেল।
নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর বিপক্ষে বিদ্রোহী ছালেক চৌধুরী।
নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির।
খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. শহীদুল আলমের বিপক্ষে বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।
রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী মোজাফফর আহমেদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী রিটা রহমান।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের বিপক্ষে বিদ্রোহী আলহাজ্ব আবদুল্লাহ।
রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাসিরুল হক সাবুর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হারুনুর রশিদ।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীরের বিপক্ষে বিদ্রোহী তোফাজ্জল হোসেন।
যশোর-৫ আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ইছহাক।
নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফুল আলম খোকন।
চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এম এ হান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী নজীব আহমেদ।
ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী আজগরের বিপক্ষে বিদ্রোহী আফজাল এইচ খান।
ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের বিপক্ষে বিদ্রোহী মশিউজ্জামান।
ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আক্তারুল আলম ফারুকের বিপক্ষে বিদ্রোহী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমানের বিপক্ষে বিদ্রোহী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী খুররম খান চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু ওয়াহাব আখন্দ।
নিজ দলের বাইরে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে বিএনপি যেসব আসন ছেড়েছে সেখানেও স্বস্তি নেই প্রার্থীরা। বিএনপির ছাড় দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে চারটিতে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছেন মিত্ররা।
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন বিএনপির সাবেক নেতা সাইফুল আলম (নীরব)। তাকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনে থাকায় জোটসমর্থিত প্রার্থী চাপে পড়েছেন। এ আসন দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন মাঠে রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক কমিটি বিলুপ্ত ও নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বিএনপির একটি অংশ রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও সমঝোতার প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর বিপক্ষে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আছে মাত্র কয়েকদিন। প্রচারে সরগরম সারা দেশ। বিশ্রামের সময় নেই প্রার্থীদের। ধানের শীষের প্রার্থীরাও বিরামহীন জনসংযোগে ব্যস্ত দেশ জুড়ে। ব্যস্ত তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। তবে ধানের শীষের অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল নয়, মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার দলের নেতারাই!
হাতেগোনা একটি-দুটি নয়, রীতিমতো ৭৯টি আসনে বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা রয়েছেন এমন বিপাকে। সেখানে জয় ছিনিয়ে নিতে যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তাদের দলেরই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা, ভোটের মাঠে যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন বড় ‘ফ্যাক্টর’। এই ৭৯ আসনে এমন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সংখ্যা ৯২!
তৃণমূলের তথ্য বলছে, নির্বাচনি মাঠে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত অর্ধশত নেতার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। কোনো কোনো আসনে তাদের পক্ষেই জয়ের পাল্লা ভারী হয়ে যেতে পারে। আবার কোথাও কোথাও বিএনপির মূল প্রার্থীর সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর ‘ভোট কাটাকাটি’তে জয়ের পাল্লা ঝুঁকে পড়তে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর দিকে। ফলে অনেক আসনেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা ভয় ছড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে।
নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হওয়ার পর থেকেই ‘বিদ্রোহী’দের ভোটের মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। অনেককে বহিষ্কার করেছে দল থেকে। এরপর কেউ কেউ দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেনদলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কেউ কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাদের বহিষ্কারাদেশ তুলেও নিয়েছে বিএনপি।
তবে ৯২ ‘বিদ্রোহী’ নেতা এখনো ভোটের মাঠ ছাড়ার বিষয়ে নমনীয় হননি। বহিষ্কারের আদেশ মাথায় নিয়েই আছেন ভোটের লড়াইয়ে। বিএনপি বা বিএনপিসমর্থিত জোটের প্রার্থীদের থেকে বিজয় ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হবেন বলেও বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন তারা। নানা চেষ্টার পরও এ রকম যাদের মাঠ থেকে সরানো যাচ্ছে না, বিএনপি ভবিষ্যতে তাদের দলে ফেরানোর সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে দলটির মধ্যে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান রাজনীতি ডটকমকে বলেন, ‘অনেক দিন দেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। এই সময়ে দলে প্রার্থী হওয়ার মতো একাধিক যোগ্য নেতা তৈরি হয়েছেন, এটা অস্বীকারের সুযোগ নেই।’
‘তারপরও শুরু থেকেই আমরা নানাভাবে চেষ্টা করেছি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে। কিন্তু কিছু জায়গায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবে নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। আশা করি প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যাবে,’— বলেন নজরুল ইসলাম খান।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার চারটি আসনেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। বাগেরহাট-১ আসনে তার সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা শেখ মাছুদ রানা, বাগেরহাট-৪ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন কাজী খায়রুজ্জামান। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তিনজনকেই বহিষ্কার করা হয়েছে।
এম এ এইচ সেলিমের দাবি, দলের মনোনীত প্রার্থীরা এলাকায় পরিচিত নন। তিনি বিএনপির আসন রক্ষার স্বার্থেই নির্বাচনে নেমেছেন। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয়ে অন্য দল সুবিধা পেতে পারে।
ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলির বিপক্ষে মাঠে রয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা এস এ সিদ্দিক সাজু। তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এ আসনে জামায়াত প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন সাবেক এপিএস মো. আবদুল মতিন খান। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি মাঠে সক্রিয়। এখানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মো. আনোয়ার হোসাইন।
দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী এ কে এম কামরুজ্জামানের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও জাকারিয়া বাচ্চু।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী হাসাদুল ইসলাম হিরা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।
সিলেট-৫ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোটসঙ্গীকে। এ আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুর রহমান সুমনের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন নজরুল ইসলাম আজাদ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুকুল ইসলাম রাজীব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল মান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী শাহ মোজাম্মেল হোসেন।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফর রহমান খান আজাদের বিপক্ষে বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন মাইনুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) মাহমুদুল হাসানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুল হক চুন্নু।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এম এ মালেক খানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী নূরুল ইসলাম সাজু।
পঞ্চগড়-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদের বিপক্ষে বিদ্রোহী সাখাওয়াত হোসেন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবরের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু।
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী কামরুল ইসলাম।
নড়াইল-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী গৌতম মিত্র।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বিপক্ষে বিদ্রোহী শহীদুজ্জামান বেল্টু।
নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ আহমেদ মোজাম্মেল।
নওগাঁ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকীর বিপক্ষে বিদ্রোহী ছালেক চৌধুরী।
নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির।
খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী সমীরণ দেওয়ান।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. শহীদুল আলমের বিপক্ষে বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী জহিরুল ইসলাম।
রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী মোজাফফর আহমেদের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী রিটা রহমান।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের বিপক্ষে বিদ্রোহী আলহাজ্ব আবদুল্লাহ।
রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাসিরুল হক সাবুর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হারুনুর রশিদ।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীরের বিপক্ষে বিদ্রোহী তোফাজ্জল হোসেন।
যশোর-৫ আসনে জোটসমর্থিত প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ ইছহাক।
নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুকের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী শরিফুল আলম খোকন।
চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী এম এ হান্নানের বিপক্ষে বিদ্রোহী নজীব আহমেদ।
ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী আজগরের বিপক্ষে বিদ্রোহী আফজাল এইচ খান।
ময়মনসিংহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ারের বিপক্ষে বিদ্রোহী মশিউজ্জামান।
ময়মনসিংহ-৬ আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আক্তারুল আলম ফারুকের বিপক্ষে বিদ্রোহী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. মাহাবুবুর রহমানের বিপক্ষে বিদ্রোহী ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী খুররম খান চৌধুরীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী আবু ওয়াহাব আখন্দ।
নিজ দলের বাইরে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোকে বিএনপি যেসব আসন ছেড়েছে সেখানেও স্বস্তি নেই প্রার্থীরা। বিএনপির ছাড় দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে চারটিতে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ফলে ব্যাপক চাপে পড়েছেন মিত্ররা।
ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ছেন বিএনপির সাবেক নেতা সাইফুল আলম (নীরব)। তাকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনে থাকায় জোটসমর্থিত প্রার্থী চাপে পড়েছেন। এ আসন দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন মাঠে রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একাধিক কমিটি বিলুপ্ত ও নেতাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপক্ষে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বিএনপির একটি অংশ রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালাচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও সমঝোতার প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর বিপক্ষে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচনি মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানান।
১৮ ঘণ্টা আগে
দুই. ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় সাধন করা হবে। পাশাপাশি সব ধর্মের শিশু-কিশোরদের জন্য নৈতিক শিক্ষা ও সহনশীলতা বৃদ্ধির কর্মসূচি চালু করা হবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সংস্কার, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন, সুশাসন নিশ্চিত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উন্নতি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ প্রভৃতি।
১৯ ঘণ্টা আগে
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
২১ ঘণ্টা আগে