ভোটার স্থানান্তরসহ সিইসির কাছে ৫ অভিযোগ বিএনপির

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
রোববার সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ভিডিও থেকে

নাম উল্লেখ না করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জিততে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ ভোটার স্থানান্তরের ‘কূটকৌশল’ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ ধরনের স্থানান্তরিত ভোটারের তালিকা সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে দলটি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে সিইসির কাছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকা ভোটারদের ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনি এলাকায় স্থানান্তর করে নিয়ে এসে প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ‘একটি রাজনৈতিক দল’ কৌশল নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরী এলাকার বিভিন্ন আসনে একটি রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত-সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচনে বিজয়ী করার অনৈতিক কূটকৌশল অবলম্বন করে ব্যাপক হারে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা মহানগর এলাকার ভোটার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

‘মোট কতসংখ্যক ভোটার, কোন কোন এলাকা থেকে ঢাকা মহানগরীর কোন কোন সংসদীয় নির্বাচনি এলাকায় কী কারণে স্থানান্তর হয়েছেন, সেই ভোটারদের বিস্তারিত বিবরণ জরুরি ভিত্তিতে আমাদের সরবরাহ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি,’— বলেন মির্জা ফখরুল।

এ অভিযোগের ক্ষেত্রে নাম না নিলেও জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতের নির্বাচনি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিকাশ নম্বর ও এনআইডির কপি সংগ্রহ করছে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিন্যাল অফেন্স)। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ভঙ্গ করার অভিযোগও তুলে ধরেছে বিএনপি। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার চালানো হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বিশ্বাসী। এ কারণে আমাদের চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। অথচ বিভিন্ন রাজনীতিক দলের দলীয় প্রধানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচার চালাচ্ছেন। এ বিষয়েও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

মির্জা ফখরুল মূলত বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিতের প্রসঙ্গটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। গত ১১ জানুয়ারি থেকে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ারও কথা ছিল তার। একদিন আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে।

কেবল অন্যান্য দল নয়, খোদ নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছে বিএনপি। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের অনেক কর্মকর্তাই ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আচরণ করছেন, যাদের বিরুদ্ধে ‘একটি দলের পক্ষে’ কাজ করার অভিযোগ বিএনপির। ফলে ইসিকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে দলটি, পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান ইসি দিয়েও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, যদি তারা মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ায়। কিন্তু ইসি অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ করছে। বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা একটি দলের পক্ষে কিছু কিছু ন্যক্কারজনকভাবে কাজ করছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সে বিষয়গুলো আমরা তাদের গোচরীভূত করেছি। সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তদন্ত করে তাদের প্রত্যাহার করার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কতিপয় সিনিয়র কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি যে তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছেন।’ সে দল কোনটি, সেটি স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।

আগের মতোই এবারও প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার মাধ্যম পোস্টাল ব্যালট নিয়ে আপত্তি-অভিযোগের কথা সিইসিকে জানিয়ে এসেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি যে এই ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং কোনো একটি দলকে বিশেষভাবে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এটা পরিবর্তনের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’

নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর সাধারণ ব্যালট যেভাবে ছাপা হয় সেভাবেই পোস্টাল ব্যালটও ছাপানোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির প্রতীক ঠিকভাবে ছাপিয়ে প্রতীক বরাদ্দের পরই যেন তা দায়িত্বরতদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, বিএনপি সে অনুরোধ করেছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা মনে করেছি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির চেষ্টা তাদের (ইসি) আছে। ছোটখাটো কিছু ত্রুটি আছে। সেগুলো তারা ঠিক করে দিতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

এর আগে রোববার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যান বিএনপি মহাসচিব। প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। সিইসির সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন তারা। এ সময় ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলও ছিলেন।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় জামায়াত নেতারা

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের বৈঠক শুরু হওয়া

৪ ঘণ্টা আগে

পোস্টাল ব্যালটে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিশেষ করে, বিদেশে যারা নিবন্ধিত ভোটার তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এবং যেভাবে ব্যালট পেপারটি মুদ্রণ করা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অভিযোগ তাদের (নির্বাচন কমিশন) দিয়েছি।

৪ ঘণ্টা আগে

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিদল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও ব্যারিস্টার র

৪ ঘণ্টা আগে

২৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা এনসিপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে আসন সমঝোতায় পাওয়া ৩০টি আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বাকি তিনটি আসনে শিগগিরই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

৫ ঘণ্টা আগে