ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার ভয়ে মুখ খুলছে না গুম হওয়া ব্যক্তিরা: প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা এখনও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের আশঙ্কা, যদি ওই সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে, তবে তারা চরম নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এসব ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। সকাল ১০টায় দেওয়া এ ভাষণ বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

সম্প্রতি গুম সম্পর্কিত তদন্ত কমিশন ড. ইউনূসের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। "আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ" শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে গত সরকারের সময় গুম ও খুনের অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা এখন পর্যন্ত এক হাজার ৬৭৬টি অভিযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে ৭৫৮টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভাষণে ড. ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে ১৫টি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার মধ্যে গুম তদন্ত কমিশনও রয়েছে। এই কমিশন গত পরশু তাদের প্রথম প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রতিবেদন এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

ড. ইউনূস বলেন, "এই প্রতিবেদন পড়লে আপনারা চমকে উঠবেন। মানুষ মানুষের প্রতি কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তার ভয়াবহ বিবরণ এতে রয়েছে। যেসব মানুষ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েও জীবিত রয়েছেন, তারাও এখনও মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, তাদের আশঙ্কা, যদি সেই জালেমরা আবার ক্ষমতায় আসে, তবে তারা আরও নৃশংসভাবে আঘাত হানতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "এই প্রতিবেদন ইতিহাসে গত সরকারের ঘৃণ্য অধ্যায়ের একটি স্থায়ী দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।"

ড. ইউনূস আরও জানান, কমিশনগুলো নিয়মিত সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমা দেবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাবেক স্বৈরশাসক ও তার দোসরদের বিচারকাজ এগিয়ে চলছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে আসামিদের বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিচার প্রক্রিয়া গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও অন্যান্য পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, এবং যে কেউ চাইলে বিচার কার্যক্রম রেকর্ড করতে পারবেন।

ড. ইউনূস আরও জানান, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার প্রক্রিয়া উন্নত করতে আইসিটি প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, আলাদাভাবে গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হবে বলেও ড. ইউনূস জানান।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ: জামায়াতের ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁনের

রাশেদ খাঁন লেখেন, “আমরা না হয় বিরোধিতা বা সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু একসঙ্গে একজোটে থেকে কীভাবে এনসিপির উত্থান ও জাগরণ ঠেকাতে জাশি (জামায়াত-শিবির) এমন ফ্রেমিং করা শুরু করলো? যেখানে জাশির (জামায়াত-শিবির) পক্ষ থেকে বিবৃতি বা বিক্ষোভ করে জোটসঙ্গীদের পাশে থাকার কথা ছিল।”

২ দিন আগে

এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ওসি তদন্ত নুর মোহাম্মদ। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

২ দিন আগে

সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ, প্রশাসনের সহায়তায় বোমা হামলার অভিযোগ নাহিদের

নাহিদ আরও বলেন, কে বোমা হামলা করেছে, আমরা জানি না। আমরা জানি, এর দায় হলো প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের। ফলে আমরা এখানকার পুলিশ-প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহিতা চাইব— কেন তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে? তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা কীভাবে বোমা হামলা করার সুযোগ পেল?

৩ দিন আগে

বাংলাদেশকে মার্কিন ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার চক্রান্ত রুখতে হবে: সিপিবি

জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বলেছে, দেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘করদ রাজ্যে' পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্ত প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

৩ দিন আগে