
টিম রাজনীতি ডটকম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিতে যাচ্ছে শিগগিরই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মন্ত্রিসভায় পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ২৩ জন, বাকি দুজন টেকনোক্র্যাট।
পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে যে ২৫ জন ডাক পেয়েছেন তারা হলেন—

ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচন করে তিন হাজার ৩৬১ ভোটে হেরে গিয়েছিলেন সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক। এমপি না হতে পারলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির এই আহ্বায়ক।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার শপথ হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক সে মন্ত্রিসভাতেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৬ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান আমিনুল। এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বাতেন পান ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ধানের শীষ প্রতীকে পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। ভোটের ব্যবধান তিন হাজার ৩৬১।
আমিনুল অবশ্য ভোটের পরদিন শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত ও বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোতে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। সংসদ সদস্য হিসেবে তারা নির্বাচন না করলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় থাকছেন এই মন্ত্রিসভায়।
দুজনের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সূত্র বলছে, তিনি এ দুই পদ থেকে আজই পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এরপর কুমিল্লা-৬ আসনে দুবার নির্বাচন করলেও জয় পাননি তিনি। এবার নির্বাচনই করেননি। টেকনোক্র্যাট হিসেবে তিনিও থাকছেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম একে একে জানা যাচ্ছে। প্রাথমিক তালিকা বলছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির ছয় সদস্য ডাক পেয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব নেতাদের নাম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জানানো হয়েছে, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে শপথ অনুষ্ঠানের জন্য।
এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির যে ছয় সদস্য রয়েছেন তারা হলেন— দলের মহাসচিবের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় দলের সভা করেছে বিএনপি। সে সভাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটি সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পড়ান বিএনপির সংসদ সদস্যদের। এরপরই বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদীয় কমিটির সভায় বসেন।
সভা শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ। এবার নতুন সরকার গঠনের পালা। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি এরই মধ্যে সংসদীয় দলের সভায় দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এবার তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পালা। তার শপথের পর শপথ নেবেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা প্রাঙ্গণে নতুন সরকারের শপথ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দেশি-বিদেশি প্রায় ১২০০ অতিথি।