আমরা কোনো দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে না: জি এম কাদের

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করছে বা করতে চায় এমন কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে আমরা নই।

শনিবার (১০ মে) দুপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছে, আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু গণহত্যার দায়ে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক গণহত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী সংগঠনগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে? কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গণহত্যা হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিল। রংপুরে জাতীয় পার্টির দুজন নেতা শহীদ হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের মামলায় আমাদের অন্তত চারজন জেল খেটেছেন। মিথ্যা মামলায় আমাদের শত শত নেতাকর্মী পালিয়ে বেড়িয়েছেন। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছি। দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আন্দোলনে আমাদের অবদান শুধু অস্বীকার করাই হচ্ছে না, ছাত্র হত্যার মামলায় অন্যায়ভাবে আমাদের আসামিও করা হচ্ছে। যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেছে তারাই বৈষম্য সৃষ্টি করছে- এমন অভিযোগ জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

এসময় জি এম কাদের আরও বলেন, আমরা নাকি নির্বাচনে গিয়ে আওয়ামী লীগকে বৈধতা দিয়েছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির প্রায় ২৭০ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। বিভিন্নভাবে আমাকে নির্বাচনে থাকতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাকে মন্ত্রী করার প্রস্তাব দেয়া হয়। আমি রাজি হইনি। বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে না গেলেও ঐ বছর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আবার ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে গিয়েছিল। তাহলে ২০১৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো কি আওয়ামী লীগ সরকারকে বৈধতা দেয়নি?

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমাদের দলকে ভাঙনের মুখে ফেলে, বিশেষ চাপ সৃষ্টি করে আমাদের নির্বাচনে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। আলোচিত বিষয়টি সম্পর্কে অনেকেই অবগত আছেন। তবে সে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমরা কোনো বেআইনি কাজ করেছি বলে মনে হয় না। যদি আমাদের নির্বাচনে যাওয়াকে জনগণের প্রত্যাশার বিপক্ষে মনে করে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণের রায় গ্রহণ, শ্রেষ্ঠ বিচার বলে গণ্য হতে পারে বলে বিশ্বাস করি।

জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু। জাতীয় ছাত্র সমাজ এর আহ্বায়ক মারুফ ইসলাম প্রিন্সের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. আরিফ আলীর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, আলমগীর সিকদার লোটন, মনিরুল ইসলাম মিলন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিল, ইঞ্জি. মাইনুর রাব্বী চৌধুরী রুম্মন, এ কে এম নুরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মাহমুদ আলম, এম এ রাজ্জাক খান, ইব্রাহীম খান জুয়েল, ইঞ্জি. এলাহান উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী, মো. ইউসুফ।

এতে জাতীয় ছাত্র সমাজ এর নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. নাজমুল হাসান রেজা, আরিফুল ইসলাম আরিফ, কাইসারুজ্জামান হিমেল, মো. তারিকুল ইসলাম হাওলাদার, খন্দকার রাসেল মাহমুদ, এমএম রেজাউল করিম, মো. জাহাঙ্গীর আলম রাজিব, মো. সেলিম রানা সিয়াম, হাওলাদার মো. জাহিদ, সাহিদুল ইসলাম সাকিল, রেজাউল করিম সুমন, রিয়াজ সিকদার, মো. মাসুম রানা, সৈয়দ শাকিল আলী নয়ন, ফরিদ মিয়া, মো. বাদশাহ আব্দুল্লাহ, শরীফ মিয়া, সোহেল রানা, এমরান গাজী সুলতান, সাকের আলী নয়ন, মো. মোতালেব, নুরুল ইসলাম, মো. আশিকুর রহমান, ওসমান গণি, মো. শরীফ, মীর জুফায়েত জুবায়েত, আরিফ আলী আরিফ, জুবায়ের আহমেদ, বায়েজিদ দীপু, জাহিদ হোসেন জাহিদ, ড্যানি।

ad
ad

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জনগণ সুস্থ গণতান্ত্রিক ধারার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে: ওয়ার্কার্স পার্টি

দলের পলিটব্যুরো নেতারা বলেন, একটি অগণতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী-মৌলবাদী-মবতান্ত্রিক অস্থির অন্তবর্তী সরকারের অপশাসন থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে জনগণ। শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একতরফা কৌশলের নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে তা স্বস্তিকর ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারা তৈরির মনোভাবকেই প্রকাশ করে

২ ঘণ্টা আগে

স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসে শিক্ষা ও গণতন্ত্র স্তম্ভে ছাত্রনেতাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল সময়ের ছাত্রনেতারা সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। ১৯৮৩ সালের এই দিনে এরশাদ সরকারের নতুন শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। সেদিন স্মারকলিপি দিতে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হন।

২ ঘণ্টা আগে

দুর্বলের ওপর যেন সবলের অত্যাচার না হয়: তারেক রহমান

নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্বলের ওপর যেন সবলের অত্যাচার না হয়। কোনো বিরোধ যেন প্রতিহিংসায় না গড়ায়। তিনি বলেন, আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে এ জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’

২ ঘণ্টা আগে

এবার দেশ গড়ার পালা, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: তারেক রহমান

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া নেতা-কর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

৩ ঘণ্টা আগে