
বিবিসি বাংলা

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেছিলেন তোফায়েল আহমেদ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে জড়িয়ে ছিলেন দাপটের সঙ্গে। তবে শেষ বয়সে দলীয় রাজনীতিতেই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয় তোফায়েল আহমেদকে, যার নেপথ্যে ছিল দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব।
জীবনের শেষ এক দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে থাকায় তোফায়েল আহমেদ নিজেকে অবহেলিত মনে করতেন। দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারানোর কারণে তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ একাধিক রাজনীতিক।
তবে তারা বলছেন, দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ আদর্শচ্যুত হননি। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই ছিলেন।
সোমবার (১ জুন) বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে, ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর।
ছাত্ররাজনীতিতে দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া তোফায়েল আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচ দশকে নৌকা প্রতীকেই ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কেউ কেউ। তারা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন ও মন্ত্রিত্ব এবং এলাকার রাজনীতি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোফায়েল আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে পড়ায় তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন চলাফেরা করতে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯-এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে ছিলেন এবং জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পরই সে সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে প্রথম কাতারে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ।
উনসত্তরেই ছাত্রলীগের সভাপতি হন তোফায়েল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল।
ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। সে পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।
ওই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ওই বছরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করে। সেই জনসভা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদলে যায়। জাতীয়ভাবে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়।
২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ ১৯৭০-এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।
বাংলাদেশর স্বাধীনতা লাভের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব নিযোগ করেন। ওই সময়ের একাধিক রাজনীতিক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার যে রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিল, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল তোফায়েল আহমেদের হাতেই।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৭৩ সালে নিজের জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও আট বার নৌকা প্রতীকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।
শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তিনি ৩৩ মাস জেল খেটেছিলেন। পরে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সে সময় মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।
সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন তোফায়েল আহমেদ।
শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি তিনি।
পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। পরের দফায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তার দল আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে সেই মন্ত্রিপরিষদেও ডাক পাননি তিনি।
রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন আন্দোলন গড়ে তোলা, সেই আন্দোলনে তিন জোটের রূপরেখা প্রণয়নে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি।
তবে একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বন্দ্বে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়েছিলেন তোফায়েল আহমদে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকারে তিনি মন্ত্রী হতে পারেননি, দলেও তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা।

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। দলটির যে নেতারা সে সময় তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আশির দশকের শেষ দিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নেতারা বলেন, পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর তোফায়েল আহমেদ যদিও জেল খেটেছেন, কিন্তু সে সময় তিনি শক্ত অবস্থান নেননি— এমন এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের।
শেখ হাসিনা কয়েকবার বক্তব্যেও তার সেই ধারণা প্রকাশ করেছেন। এটি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শীতল সম্পর্কের একটি বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতাদের অনেকে। আর দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।
আশির দশকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হতে না পারায় তোফায়েল আহমেদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে। পরে আওয়ামী লীগের নীতনির্ধিারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় তাকে। সবশেষ তিনি দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না।
দলীয় রাজনীতিতে হতাশার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ নিজেও ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কাছে বিভিন্ন সময় শেয়ার করতেন। তার সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরেননি এবং রাজনীতির যাত্রায় থেমে যাননি।
তবে এক-এগারোর সরকার হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সময়ে তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভূমিকার জন্য পরে দলের রাজনীততে বেশি বেকায়দায় পড়েছিলেন তারা। সেই সরকার রাজনীতিতে সংস্কারের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা ও বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ তাদের দল আওয়ামী লীগে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। বিএনপিরও কয়েকজন নেতা তাদের দলে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগেও সংস্কারপন্থি বলে ওই চার নেতার একটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল।
সেই এক-এগারোর সরকার তাদের সংস্কার ও দুই নেত্রীর ‘মাইনাস’ করার ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। একপর্যায়ে দুই নেত্রীর নেতৃত্বেই দলদুটি ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছে এবং বিদায় নিতে হয়েছে সেই এক-এগারোর সরকারকে। কিন্তু রাজনীতিতে কপাল পোড়ে সেই সংস্কারপন্থিদের। তোফায়েল আহমেদ দলে চিহ্নিত হন সংস্কারপন্থি হিসেবে এবং একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলীয় রাজনীতিতে।
এরপর টানা সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনে তোফায়েল আহমেদ একবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি তোফায়েল আহমেদ কতটা সামলে উঠতে পেরেছিলেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও কারও কারও সেই প্রশ্ন রয়েছে।
তবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এমন এক সময় তিনি চিরবিদায় নিলেন, যখন দলটি অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চরম সংকটে রয়েছে।

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে উঠেছিলেন তোফায়েল আহমেদ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধেরও অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনীতিতে জড়িয়ে ছিলেন দাপটের সঙ্গে। তবে শেষ বয়সে দলীয় রাজনীতিতেই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয় তোফায়েল আহমেদকে, যার নেপথ্যে ছিল দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব।
জীবনের শেষ এক দশকের বেশি সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে থাকায় তোফায়েল আহমেদ নিজেকে অবহেলিত মনে করতেন। দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারানোর কারণে তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তার ঘনিষ্ঠ একাধিক রাজনীতিক।
তবে তারা বলছেন, দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে হতাশা থাকলেও তোফায়েল আহমেদ আদর্শচ্যুত হননি। তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেই ছিলেন।
সোমবার (১ জুন) বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। স্বজনরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে, ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর।
ছাত্ররাজনীতিতে দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া তোফায়েল আহমেদ স্বাধীন বাংলাদেশের সাড়ে পাঁচ দশকে নৌকা প্রতীকেই ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোলা-১ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন তিনি।
তোফায়েল আহমেদকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অংশ বলে উল্লেখ করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কেউ কেউ। তারা মনে করেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি, গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন ও মন্ত্রিত্ব এবং এলাকার রাজনীতি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই তোফায়েল আহমেদ দক্ষতার সঙ্গে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।
পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, তোফায়েল আহমেদ কয়েক বছর ধরে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন। স্ট্রোকের কারণে তার শরীরের একাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। বাঁ হাত ও পা অবশ হয়ে পড়ায় তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন চলাফেরা করতে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯-এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে ছিলেন এবং জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ডাকসুর ভিপি হওয়ার পরই সে সময়ের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে প্রথম কাতারে চলে আসেন তোফায়েল আহমেদ।
উনসত্তরেই ছাত্রলীগের সভাপতি হন তোফায়েল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল।
ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। সে পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।
ওই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ওই বছরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করে। সেই জনসভা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা হওয়ার পর তোফায়েল আহমেদের রাজনৈতিক জীবনের বাঁক বদলে যায়। জাতীয়ভাবে তার একটা অবস্থান তৈরি হয়।
২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ ১৯৭০-এর জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন।
বাংলাদেশর স্বাধীনতা লাভের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় তোফায়েল আহমেদকে তার রাজনৈতিক সচিব নিযোগ করেন। ওই সময়ের একাধিক রাজনীতিক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সে সময়ের আওয়ামী লীগ সরকার যে রক্ষীবাহিনী গঠন করেছিল, শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ছিল তোফায়েল আহমেদের হাতেই।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৭৩ সালে নিজের জেলা ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আরও আট বার নৌকা প্রতীকেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।
শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনা ঘটে ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তিনি ৩৩ মাস জেল খেটেছিলেন। পরে জেল থেকে বেরিয়ে তিনি সে সময় মালেক উকিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন।
সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতনের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছেন তোফায়েল আহমেদ।
শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি তিনি।
পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ। পরের দফায় ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তার দল আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করলে সেই মন্ত্রিপরিষদেও ডাক পাননি তিনি।
রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির বাইরে জাতীয় রাজনীতিতেও একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। জেনারেল এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন আন্দোলন গড়ে তোলা, সেই আন্দোলনে তিন জোটের রূপরেখা প্রণয়নে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। অন্য সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি।
তবে একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বন্দ্বে দলীয় রাজনীতিতে প্রভাব হারিয়েছিলেন তোফায়েল আহমদে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের সরকারে তিনি মন্ত্রী হতে পারেননি, দলেও তাকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছিল বলে বলেছেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকেরা।

শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন। দলটির যে নেতারা সে সময় তাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের ব্যাপক প্রভাব ছিল।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আশির দশকের শেষ দিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ওই নেতারা বলেন, পঁচাত্তরে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর তোফায়েল আহমেদ যদিও জেল খেটেছেন, কিন্তু সে সময় তিনি শক্ত অবস্থান নেননি— এমন এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের।
শেখ হাসিনা কয়েকবার বক্তব্যেও তার সেই ধারণা প্রকাশ করেছেন। এটি তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শীতল সম্পর্কের একটি বড় কারণ ছিল বলে মনে করেন দলটির নেতাদের অনেকে। আর দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে শীতল সম্পর্কের কারণে দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ই কোণঠাসা হয়ে থাকতে হয়েছে তাকে।
আশির দশকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলটির একজন নেতা জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হতে না পারায় তোফায়েল আহমেদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল আশির দশকের শেষ দিকে। পরে আওয়ামী লীগের নীতনির্ধিারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় তাকে। সবশেষ তিনি দলটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। দলের নীতিনির্ধারণে উপদেষ্টা মণ্ডলীর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না।
দলীয় রাজনীতিতে হতাশার বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ নিজেও ঘনিষ্ঠ রাজনীতিকদের কাছে বিভিন্ন সময় শেয়ার করতেন। তার সেই ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়ে হতাশ হয়েছেন। কিন্তু আদর্শ থেকে সরেননি এবং রাজনীতির যাত্রায় থেমে যাননি।
তবে এক-এগারোর সরকার হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সময়ে তোফায়েল আহমেদসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার ভূমিকার জন্য পরে দলের রাজনীততে বেশি বেকায়দায় পড়েছিলেন তারা। সেই সরকার রাজনীতিতে সংস্কারের কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা ও বিএনপির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই সময় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আব্দুর রাজ্জাক ও আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তোফায়েল আহমেদ তাদের দল আওয়ামী লীগে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। বিএনপিরও কয়েকজন নেতা তাদের দলে সংস্কারের প্রস্তাব তুলেছিলেন। আওয়ামী লীগেও সংস্কারপন্থি বলে ওই চার নেতার একটা পক্ষ তৈরি হয়েছিল।
সেই এক-এগারোর সরকার তাদের সংস্কার ও দুই নেত্রীর ‘মাইনাস’ করার ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। একপর্যায়ে দুই নেত্রীর নেতৃত্বেই দলদুটি ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছে এবং বিদায় নিতে হয়েছে সেই এক-এগারোর সরকারকে। কিন্তু রাজনীতিতে কপাল পোড়ে সেই সংস্কারপন্থিদের। তোফায়েল আহমেদ দলে চিহ্নিত হন সংস্কারপন্থি হিসেবে এবং একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলীয় রাজনীতিতে।
এরপর টানা সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগের শাসনে তোফায়েল আহমেদ একবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি তোফায়েল আহমেদ কতটা সামলে উঠতে পেরেছিলেন, তার রাজনৈতিক সহকর্মীদেরও কারও কারও সেই প্রশ্ন রয়েছে।
তবে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এমন এক সময় তিনি চিরবিদায় নিলেন, যখন দলটি অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চরম সংকটে রয়েছে।

তিনি জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেন, চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি না বলে আপনারা সেটাকে হাদিয়াবাজি করেন, ইয়ানতবাজি করেন… আরবি শব্দ দিয়ে ওটাকে একটা কাভার দেওয়ার চেষ্টা করেন।
১ দিন আগে
বিগত কয়েক দিনে দেশের রাজনৈতিক ও ও প্রশাসনিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত শব্দ ‘কিচেন কেবিনেট’। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক একাধিক উপদেষ্টার বিস্ফোরক বক্তব্যে সামনে এসেছে এমন এক অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতাকেন্দ্রের অভিযোগ, যারা উপদেষ্টা পরিষদের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস
২ দিন আগে
রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের ঘোষণা বাস্তবের মিল নেই বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, অব্যবস্থাপনার কারণে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২ দিন আগে
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ১৬টি স্থানে আয়োজিত মানবিক কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
২ দিন আগে