
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সংসদ সদস্যরাও ভোট দেওয়া শুরু করেছেন। বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, আখতার হোসেনসহ একে একে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।
সংসদের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় একটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সেখানে একে একে ভোট দিচ্ছেন। সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমানউল্লাহ আমানসহ সংসদ সদস্যরা ব্যালট পেপারে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার পর তাদের অনেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন।
এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ তথা প্ল্যানারি হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের ভোটদানের মধ্য দিয়ে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বিকেল ৫টায় ভোট নেওয়া শেষ হলেই ভোট গণনা শুরু হবে। দ্রুততম সময়ে ভোট গণনা করে ভোটকক্ষেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার সময়ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হতে থাকতে পারবেন।
সিইসি তার বক্তব্যের শুরুতেই সবাইকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে দুই প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম ঘোষণা করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, তার নিয়ম বলে দেন।
সিইসি বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রত্যেকের নামে আলাদা আলাদা ব্যালট থাকবে। সেই ব্যালটে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পূর্ণ নাম সই করতে হবে। সই বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো ভাষাতেই দেওয়া হবে।
ব্যালট বাক্সে কীভাবে ব্যালট পেপার রাখতে হবে, সেটিও বলে দেন সিইসি। জানান, বিকেল ৫টার পর ভোট গণনা শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদে। সবার আগে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এরপর রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর মধ্য দিয়ে দেশে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিইসি ভোট গ্রহণ শুরুর আগে জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যদের কাছে ব্যালট চলে যাবে। তারা ব্যালটে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ভোট গ্রহণের পর গণনা ও ফল ঘোষণার সময়ও চাইলে তারা সংসদ অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে সমবেত হয়েছেন। উপস্থিত হয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অন্য কর্মকর্তারা।
দুপুর ২টা ৫ মিনিটে সিইসি স্বাগত বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তিনি ভোট গ্রহণ শুরুর আগে সাধারণ নিয়মগুলো সংসদ সদস্যদের পড়ে শোনাচ্ছেন।
জাতীয় সংসদে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অন্য মন্ত্রীরা। এখন বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে শেষ অফিস করে বিদায় নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবন থেকে গার্ড অব অনার দিয়ে তাকে বিদায় দেওয়া হয়। এ দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে সংসদ ভবনে। আগামীকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ নেবেন নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, যার প্রাক্কালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবন ছাড়লেন।
গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও পালন করবেন সিইসি।
সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন তাঁরা। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে আবার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদকক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয় সূত্র।
বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণের দিন তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হচ্ছে। বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। প্রার্থী দুজন— ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।
নির্বাচনে ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২৪৭। এর বাইরে বিএনপির মিত্র ও শরিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সদস্য ৭৭ জন। এ ছাড়া জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যসহ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন এই জোটে।
এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং স্বতন্ত্র আটজন সংসদ সদস্য রয়েছেন। সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট চেয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকতে পারেন।
বিএনপি জোট ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যসংখ্যার ব্যবধান বেশ বড়। ফলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া কার্যত নিশ্চিত। তবে নির্বাচনে দুজন প্রার্থী থাকায় নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতে হচ্ছে।